সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাডার ক্রয় মামলা ৩১ মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া রায় স্থগিত করেনি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আগামী ২ জানুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহম্মদ নিজামুল হক মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ রাডার ক্রয় মামলাটি ৩১ মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তি নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে মামলার অবশিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে বিচারিক আদালতকে বলা হয়।

হাইকোর্ট বিভাগের এই রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন মামলার আসামি সাবেক বিমান বাহিনীর প্রধান সুলতান মাহমুদ। আজ দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান শুনানি করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৪ মে তত্কালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো এরশাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে। ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির অত‌্যাধুনিক রাডার ক্রয় না করে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিন কোম্পানির রাডার কিনে রাষ্ট্রের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর এরশাদসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট এরশাদসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হলেও ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত ছিলো।

১৮ বছর পর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট বাদির সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। এরপর ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করে যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য রাখে আদালত। কিন্তু এই সাক্ষ্য পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে অবশিষ্ট সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আবেদন করে দুদক। ঐ আবেদন গত ৭ নভেম্বর খারিজ করে দেয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ ৩১ মার্চের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।

LEAVE A REPLY