নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপে এরশাদ

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার দ্বিতীয় দিন সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে বসেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় বঙ্গভবনের দরবার দলে এই আলোচনায় জাতীয় পার্টির ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

বিরোধী দলীয় নেতা ও পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এম এ সাত্তার, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ফখরুল ইমাম, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্ন, সালমা ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, এসএম ফয়সাল চিশতী, তাজ রহমান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, খালেদ আক্তার ও বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী রয়েছেন এই প্রতিনিধি দলে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ বেলা ২টা ৫০ এ অধিকাংশ নেতাকে নিয়ে বঙ্গভবনে পৌঁছালেও তার স্ত্রী রওশন বাকিদের নিয়ে আসেন ৩টার ঠিক আগে আগে।

নির্ধারিত সময় বিকাল ৩টায় রাষ্ট্রপতি হামিদ দরবার হলে প্রবেশ করার পর শুরু হয় ইসি গঠন নিয়ে আলোচনা।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার আগের দিনই জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরবেন তারা।

এগুলো হল– ১. নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা। ২. সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত একটি আইনি কাঠামো প্রণয়ন। ৩. নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠনের জন্য আইন করে বর্তমান সংসদেই তা পাস করা। ৪. নির্বাচন কমিশনারদের অন্য অফিসে নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ এবং তাদের ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়স নিশ্চিত করা। ৫. নির্বাচন কমিশনারদের নিরপেক্ষতা, ব্যক্তিগত একাগ্রতা ও সততা, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়জ্ঞান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না থাকা নিশ্চিত করা।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষে আগামী ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেবে নতুন ইসি। ওই কমিশনের অধীনেই ২০১৯ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।

হাওলাদার সোমবার বলেন, “জাতীয় পার্টি সবসময়ই গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন আশা করে। আমাদের দলের চেয়ারম্যান দীর্ঘ নয় বছর দেশ পরিচালনা করেছেন। আমরা যে প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করব- আমরা বিশ্বাস করি, সেগুলো গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।”

সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্যে দিয়ে রোববার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান আবদুল হামিদের এই সংলাপ শুরু হয়। প্রথম দিনের আলোচনার পর সংলাপ নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য আসে দুই পক্ষ থেকেই।

গত ১২ ডিসেম্বর যে পাঁচটি দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল তার মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে আলোচনার তারিখ নতুন করে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন।

তিনি বলেন, “জাসদের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দেশের বাইরে থাকবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নতুন সময়সূচি শিগগিরই ঠিক করা হবে।”

বুধবার বিকাল ৩টায় লিবারেল ডেমোক্রেটি পার্টি (এলডিপি) ও সাড়ে ৪টায় কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে আলোচনা করবেন রাষ্ট্রপতি। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি দলকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়ে বঙ্গভবন থেকে চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে।

LEAVE A REPLY