বাংলা বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকজন নারীকে যৌন হয়রানির মামলায় শনাক্তকারী সাতজনকে বাদ দিয়েই গ্রেপ্তার মো. কামালকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত ও তথ্য প্রসিকিউশনের উপকমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও সাক্ষীদের বক্তব্যর পর আটজনকে শনাক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি কামাল তাদেরই একজন। বাকি সাতজনকে পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। মামলায় ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকজন নারীকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তদন্তকালে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও সাক্ষীদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আটজনকে শনাক্ত করা হয়। শনাক্ত আট আসামির ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা করে মোট আট লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। তবে আসামিদের নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় প্রথমে এ মামলায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় ডিবি পুলিশ।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ‘নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির মামলা, শেষমেশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন’ শিরোনামে প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে মামলাটি পুনঃ তদন্তের আবেদন করে পুলিশ। ২৩ ফেব্রুয়ারি ধার্য তারিখে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পুনঃ তদন্তের আদেশ দেন।

চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর চকবাজারের খাজী দেওয়ান রাস্তার একটি বাড়ি থেকে মো. কামালকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। বাকি সাতজনের বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, তাদের নাম-ঠিকানা ও পরিচয় পাওয়া গেলে বা গ্রেপ্তার করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

এ ঘটনার পর হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিও গঠন করা হয়।

LEAVE A REPLY