প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের ইঞ্জিনে অয়েল (লুব্রিকেন্ট) সিস্টেমে নাট-বোল্ট খোলা থাকার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে (সিটি) দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) এমএম আসাদুজ্জামান।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর আদালত।

বুধবার বিকালে মামলার এজাহার আদালতে পৌঁছলে আদালত বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়াকে মামলাটি তদন্ত করে ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বিচারক।

ওসি নূরে আজম মিয়া জানান, ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বৃহস্পতিবার তাদেরকে মামলার নথিপত্র বুঝিয়ে দেয়া হবে।

ওসি আরো জানান, এজহারে আসামিদের নাম-পদবী থাকলেও স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানা ছিল না। তারা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেছেন।

মামলার এজাহারনামীয় ৯ আসামি ও অজ্ঞাত আরো কয়েকজন পরস্পরের যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থানায় মঙ্গলবার রাতে দায়ের হওয়া মামলাটির নম্বর ২১। এটি দণ্ডবিধির ১০৯, ১১৮, ১২০ (খ), ২৮৭ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় রেকর্ড করা হয়।

এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসাইন এবং টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন-২০১৬ তে যোগ দিতে গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে (বোয়িং-৭৭৭) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পথিমধ্যে তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

LEAVE A REPLY