প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ফ্লাইটে ত্রুটির ঘটনার মামলায় বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের দুই কর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ওই দুই আসামি ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের জন্য আবেদন করেন। মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তী জামিনের আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাঁরা হলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান।

কয়েক দিন আগে এ ঘটনায় ঢাকা বিমানবন্দর থানায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রকৌশল বিভাগের তিন কর্মকর্তাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবহেলা ও ‘অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত ২৬ নভেম্বর একে বিমানের নিজস্ব হ্যাঙ্গারে নেওয়া হয়। পরদিন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে উড়োজাহাজটি হাঙ্গেরির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে উড়োজাহাজের বাঁ পাশের ইঞ্জিন অয়েলের ‘বি-নাট’ ঢিলা পাওয়া যায়। এতে ইঞ্জিনে তেলের চাপ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।

দুর্ঘটনা এড়াতে তুর্কমেনিস্তানে বিমানটির জরুরি অবতরণ করা হয়। এ ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষের তদন্তের বরাত দিয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, ‘বি-নাট’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঢিলা হওয়ার সম্ভাবনা কম। এজাহারে মামলার বাদী আশঙ্কা করেছেন, উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত ব্যক্তিরা নাটটি ঢিলা করেছেন।

উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামতের সময় নয় আসামির দায়িত্ব সম্পর্কে তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি সিদ্দিকুর রহমান সরাসরি মেরামতকাজে জড়িত ছিলেন। এস এম রোকনুজ্জামান ‘মেনটেন্যান্স রিলিজ বুক’ (রক্ষণাবেক্ষণ–সংক্রান্ত খাতা) সই করেন।

LEAVE A REPLY