সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রোববার উদযাপিত হচ্ছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। আনন্দ-উৎসব এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় পালন করেছে এই বিশেষ দিনটি।

পৃথিবীকে পাপ-তাপ থেকে মুক্ত করতেই প্রভু যিশু জন্মেছিলেন এই দিনে। তিনি এসেছিলেন সবার জন্য।

শনিবার ভ্যাটিকানে বড়দিনের আগের দিন সন্ধ্যার প্রার্থনা সভায় রোমান ক্যাথলিক গির্জার প্রধান পোপ ফ্রান্সিস বিশ্বব্যাপী শিশুদের নিরবিচ্ছিন্ন দুর্ভোগের নিন্দা জানান। খ্রিস্টীয় ‘বড়দিনের’ প্রকৃত তাৎপর্য বস্তুগত ভোগ-বিলাসের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

1_258194_0

বিবিসির খবরে বলা হয়, তিনি ক্ষুধার্ত, অভিবাসন রুটগুলোতে বিপদের মধ্যে পড়া এবং আলেপ্পোসহ সিরিয়ার শহরগুলোতে বোমাবর্ষণের শিকার হওয়া মানুষের কথা স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠান চালাকালে ভ্যাটিকানজুড়ে কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়। সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ওই প্রার্থনা সভায় যারা যোগ দিতে এসেছিলেন তাদের মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে শুরু হওয়া ‘বড়দিন’ পরবের প্রথম এ অনুষ্ঠানে পোপ বলেন, বস্তুগত বিষয়গুলো ক্রিসমাস পরবকে ‘জিম্মি’ করে ফেলেছে, তাই এবারের পরবে আরো ‘নম্রতা’ আসা দরকার। গত প্রত্যেকটি বছরে শরণার্থীদের প্রতি সহানুভুতি দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন পোপ, এবারও একই আহ্বান জানিয়ে যিশু একজন অভিবাসী ছিলেন বলে খ্রিস্টানদের স্মরণ রাখতে বলেছেন তিনি।

2_258194_1

পোপের সে আহ্বানের সুর অনুুরণিত হয় বাংলাদেশের গির্জাগুলোতেও।

বড়দিন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব গির্জায় রোববার দিনের শুরুতেই পাপমুক্তি বিশ্বমানবের কল্যাণ ও শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। ঢাকার তেজগাঁও, ফার্মগেট, কাকরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে গির্জার ভেতরে-বাইরে ছিল খিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপচেপড়া ভিড়। সবাই নতুন পোশাক পরে প্রার্থনায় অংশ নেন। তবে বাহারি পোশাকে শিশুদের মাঝে ছিল বাড়তি আনন্দ। বড়দিনের উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে গির্জার প্রধান ফটকেই সান্তাক্লজ শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ উপহার নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাবা-মায়ের হাত ধরে আসা শিশু-কিশোররা চকোলেট, ক্যান্ডি পাওয়ার পাশাপাশি সান্তাক্লজকে পেয়ে খুশিতে মেতে ওঠে।

বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর বড় বড় হোটেলগুলোয় বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি।

LEAVE A REPLY