৯টি দেশে রফতানি হচ্ছে সিমেন্ট

৯ দেশে রফতানি হচ্ছে সিমেন্ট। ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, বুলগেরিয়া, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে এ অত্যাবশ্যকীয় নির্মাণ উপকরণ রফতানি হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে তাই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিদেশ থেকে সিমেন্ট আমদানি হয়নি। তবে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকার আসছে বিপুল পরিমাণে। প্রতিবছর বাড়ছে আমদানির পরিমাণও।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে চলতি বছর সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্লিংকার আমদানি করেছে সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। আমদানির পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৮৯ লাখ টন। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে গত সপ্তাহেও ক্লিংকার বোঝাই জাহাজ দাঁড়িয়েছিল ২০টি। বছর শেষে এটি ছাড়িয়ে যেতে পারে দুই কোটি টনের ঘর।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত পাঁচ বছরে আমদানি ও রফতানির চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এক ব্যাগ সিমেন্টও আমদানি হয়নি। আড়াই কোটি টন দেশীয় চাহিদার পুরোটা পূরণ করে উল্টো প্রতিবছর আড়াই লাখ টনেরও বেশি সিমেন্ট রফতানি হচ্ছে বিদেশে। বিদেশের মধ্যে বেশিরভাগ যাচ্ছে ভারতে। আসাম, ত্রিপুরাসহ সাত রাজ্যেই বেশি ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশের সিমেন্ট।

বাজার ক্রমশ বাড়তে থাকায় সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানি বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের একটি বড় অংশ আসছে ক্লিংকার নিয়ে। রোববার বন্দরের বহির্নোঙরে কাজে থাকা ৫৩ জাহাজের মধ্যে ২০টিই ছিল সিমেন্ট ক্লিংকার বোঝাই। গত পাঁচ বছর ধরেই ছিল আমদানির এ চিত্র। ২০১২ সালে এক কোটি ১৮ লাখ ২৫ হাজার টন ক্লিংকার এসেছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। তিন বছর পরে ২০১৫ সালে তা হয়েছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৮৩ হাজার টন। চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে এক কোটি ৮৯ লাখ টন। এবারে আসা সিমেন্ট ক্লিংকারই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ আমদানি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি করা সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকারের বেশিরভাগ আসছে ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। ২০০৪ সালে প্রতিটন ক্লিংকারের দাম গড়ে ২৮ ডলার থাকলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। দেশে বাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় কমেনি আমদানিও। সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও গত এক দশকে দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত সিমেন্ট কোম্পানি ছিল হাতেগোনা ছয় থেকে সাতটি। আর এখন দেশে সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৩৩টি। গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের কোম্পানি সায়াম সিটি বাজারে ইনসি সিমেন্ট নামে নতুন সিমেন্ট বাজারজাত শুরু করেছে। কোম্পানিটি নারায়ণগঞ্জে কারখানা স্থাপন করে সিমেন্ট উৎপাদন শুরু করেছে।

সিমেন্টের বাজার সম্প্রসারণ বিষয়ে কনফিডেন্স সিমেন্টের হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।

পদ্মা সেতু, ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পেরও কাজ চলছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকায় সিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। গুণগতমান বজায় রেখে এ খাতে ভালো করতে প্রতিযোগিতা চলছে কোম্পানিগুলোর মধ্যে। একই সঙ্গে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানিতে নজর দিচ্ছে অনেক কোম্পানি।

LEAVE A REPLY