সিলেটে অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট

সিলেট মহানগরের সড়ক ও সড়কদ্বীপ আলোকিত করতে প্রায় ১৭ হাজার বাতি লাগিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। কিন্তু এ সড়কবাতিগুলোর অধিকাংশই এখন অকেজো। এতে সন্ধ্যার পর চলাচল করতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

আলোবিহীন রাজপথসহ অলিগলিতে এ সুযোগে ঘটছে ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

প্রতি অর্থবছরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক মালামাল ক্রয় খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ থাকে। চলতি অর্থবছরেও সিসিকের বিদ্যুৎ বিভাগে বরাদ্দ রয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সড়ক আলোকিতকরণে রয়েছে ৬০ লাখ টাকা।

তবে সিসিকের আয় অনুযায়ী ব্যয় করতে হয় বিধায় বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে কাজগুলো চাহিদামতো করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা মো. রুহুর আলম।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে সড়কবাতির ব্যবস্থা থাকলেও রাতের বেলা আলোর দেখা মিলছে না। কারণ নগরের প্রায় সতেরো হাজার সড়কবাতির অধিকাংশই অকেজো পড়ে রয়েছে। আর যেগুলো সচল আছে, মেরামতের অভাবে সেগুলোও যেন জ্বলেও জ্বলে না। দোকান আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আলোয় রাতের প্রথমভাগে সড়কগুলো কিছুটা আলোকিত থাকলেও দোকানপাট বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় মেমে আসে অন্ধকার।

আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের মতো ঘটনা ঘটে। অনেক সময় অপরাধী চক্রের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারান পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের বন্দরবাজার, সুরমা মার্কেটের আশপাশ, চৌহাট্টা, মেডিকেল রোড, কুমারপাড়া, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, জেলরোড, ঘাসিটুলা, চৌকিদেখি, সোবহানিঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাতি নেই। কিছু কিছু বাতি থাকলেও সেগুলো কখনো জ্বলে, আবার কখনো নেভে।

নগরের প্রধান প্রবেশপথ কিন ব্রিজ ও শাহজালাল ব্রিজ এলাকায়ও পর্যাপ্ত আলোর অভাব রয়েছে। কিন ব্রিজের শোভাবর্ধনে লাগানো বাতিগুলো একে একে অচল হওয়ার পথে। কিন ব্রিজ এলাকা বিনোদন স্থান হয়ে উঠলেও এখন আর আগের মতো সন্ধ্যার পর ভিড় জমাতে দেখা যায় না দর্শনার্থীদের।

রাতের অন্ধকারে হেরোইনসেবী ও প্রমোদবালাদের আনাগোনা বাড়ে এই এলাকায়। নগরের প্রধান সড়কের চেয়ে পাড়ামহল্লার রাস্তাগুলোর অবস্থা আরও করুণ। এসব রাস্তার কিছু কিছু বাতি জ্বললেও অধিকাংশই অচল।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা মো. রুহুর আলম বলেন, নগরের প্রধান সড়কগুলোতে এনার্জি বাল্ব ও সোডিয়াম বাল্ব এবং অলিগলিতে টিউবলাইট রয়েছে। শটসাকির্টের কারণে বেশিরভাগ বাতি নষ্ট হয়ে যায়। তবে সিটি কর্পোরেশন একালায় ৪ জন সুইচম্যান এবং ২৭টি ওয়ার্ডে একজন করে বিদ্যুৎকর্মী রয়েছেন। তারা সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ ও আলোকিতকরণের কাজ করছেন।

সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ১৩৫টি লোড সেন্টার রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে সড়কবাতিগুলো অন-অফ করার জন্য মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতি মাসে ৩শ টাকা করে সম্মানীও প্রদান করা হয়।

সিটি করপোরেশনের এই কর্মকর্তারা দাবি করেন, নগরের ৮০ ভাগ সড়কবাতি সচল রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নগরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক এলাকায় ল্যাম্পপোস্টগুলো শোপিস হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ দু`একটি বাতির নিভু-নিভু আলো চোখে পড়লেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব বলেন, আমরা বাতির বিষয়ে শিগগিরই পরবর্তী সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। প্রতিটি সড়কের বাতিই সচল করতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে।

LEAVE A REPLY