রাজস্ব আদায় নিয়ে বিপাকে পাসপোর্ট অধিদফতর

পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করার নিয়ম থাকলেও তা আদায় করেনি পাসপোর্ট অধিদফতর। অর্থাৎ গত চার বছরে ৫৮৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়নি। তবে পাসপোর্ট অধিদফতরকে সরকারি কোষাগারে তা জমা দিতে বার বার চিঠি দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে বিপাকে পড়েছে পাসপোর্ট অধিদফতর।

এ বিষয়ে সম্প্রতি এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান, পিএসসি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূসক-নীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা (পূর্ব) কমিশনারেটের কমিশনার এ কে এম নুরুজ্জামান প্রমুখ। সভার কার্যপ্রণালি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। এ বিষয়ে এক নোটে বকেয়া মূসক টিকিটের দামে অন্তর্ভুক্ত করে আদায়ের সুপারিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ পাসপোর্ট গ্রাহকদের কাছ থেকে বকেয়া ৫৮৬ কোটি টাকা আদায়ের কথা বলেছেন তিনি।

এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করার নিয়ম আছে। কিন্তু গত ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইস্যু ও নবায়নকৃত পাসপোর্টে কোনো উৎসে কর কেটে রাখেনি পাসপোর্ট অধিদফতর।

এর কারণ হিসেবে পাসপোর্ট অধিদফতর বলছে, উৎসে কর যে আদায় যোগ্য, তারা এ চার বছর তা জানতই না। এর ফলে ৫৮৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। এটি তাদের অজ্ঞতাও বলে উল্লেখ করে এনবিআর।

সূত্র জানায়, পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন ফির ওপর উৎসে করের ব্যাপারে ২০১০ সালে এনবিআর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এসআরও নং-৫৬৪, বিধি-১৮ঙ অনুযায়ী লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, পারমিট দেয়া বা নবায়নের সময় গৃহীত অর্থের ওপর উৎসে মূল্য সংযোজন কর কর্তনের বিধানের কথা বলা হয়েছে।

এসআরও ২০১০ সালে জারি হলেও পাসপোর্ট অধিদফতর এটি চার বছর পর জেনেছে বলে জানান অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান। তিনি বলেন, উৎসে কর আদায় সংক্রান্ত এসআরও ২০১০ সালের। কিন্তু পাসপোর্ট ফির বিপরীতে উৎসে কর কাটার বিষয়টি আমরা ২০১৪ সালে জেনেছি।

তিনি বলেন, উৎসে মূসক (কর) কাটার বিষয়ে যথাসময়ে অবহিত না হওয়ার কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকে মূসক কেটে রাখা হয়নি। বৈঠকে বকেয়া ৫৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা থেকে অব্যাহতি দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া যে অর্থ আহরণ করা হয়নি, তা পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগ থেকে বরাদ্দ পাওয়া কঠিন বিষয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূসক-নীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন পাসপোর্ট প্রদান বা নবায়নের মাধ্যমে গ্রাহককে সেবা প্রদান করে পাসপোর্ট অধিদফতর।

তবে মূসক (ভ্যাট) আইনের দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী, কোনো ধরনের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে পাসপোর্টকে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়নি। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ফি মূসকযোগ্য হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কমিশনাররা মূসক আইনের ধারা ৫৫ অনুযায়ী দাবিনামা সংবলিত কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করেছে।

অর্থাৎ বকেয়া ৫৮৬ কোটি টাকার বিষয়টি নির্বাহী সিদ্ধান্তে নিষ্পত্তিরও সুযোগ নেই। আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে এনবিআর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে অর্থ বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি কন্ট্রা-এন্ট্রি পদ্ধতিতে পরিশোধ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারপরও বিষয়টিতে সন্দেহ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সচিব পর্যায়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।

এ জন্য একটি অবস্থানপত্র তৈরি করতে এনবিআর সদস্যকে (মূসক নীতি) আহ্বায়ক করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY