রাগীব আলীর বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি জালিয়াতি মামলার সাফাই সাক্ষ্য হবে

সিলেটের দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান বন্দোবস্ত বিষয়ে রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলার সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

আজ মঙ্গলবার সিলেটের মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।

একই আদালতে তারাপুর চা-বাগান দখল করে সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অপর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ আজ থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন মামলার বাদী এসএম আবদুল কাদের, রেল মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব) এমদাদুল হক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল আলম সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সাক্ষ্য গ্রহণকালে আদালতে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়েছিল রাগীব আলী, আবদুল হাই, তারাপুর চা-বাগানের ভুয়া সেবায়েত দেওয়ান মোস্তাক মজিদ ও বৈধ সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে। এ মামলার অপর আসামি রাগীব আলীর মেয়ে রোজিনা কাদির ও তাঁর স্বামী আবদুল কাদের পলাতক রয়েছেন।

আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান জানান, আত্মসাৎ মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে সরকারের পদস্থ তিন কর্মকর্তার একজন মামলার বাদী ও অন্য দুজন তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাঁরা সরকারি সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থেই মামলা ও তদন্ত করেছেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ ও স্মারক জালিয়াতি মামলার সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ আদালত পরে নির্ধারণ করবেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান দখলে নেন রাগীব আলী। বাগানের একাংশে রাগীব আলী ও তাঁর স্ত্রীর নামে মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ স্থাপন করা হয়। দেবোত্তর সম্পত্তির চা-বাগান বন্দোবস্ত নেওয়া ও সেখানকার জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটো মামলা করেন। মামলা দুটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নিষ্পত্তি করে পুলিশ।

১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায়ে মামলা দুটো পুনরুজ্জীবিত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুই মামলায় গত ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ওই দিনই পালিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ চলে যান রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে।

২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন রাগীব আলী। ওই দিনই তাঁকে দেশে পাঠানো হয়। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ১২ নভেম্বর ভারত থেকে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন হয়ে দেশে ফেরার সময় আবদুল হাই গ্রেপ্তার হন।

LEAVE A REPLY