হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে -প্রধানমন্ত্রী

গাইবান্ধায় সংসদ সদস্য লিটন হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না। হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

বুধবার সকালে গণভবন থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রংপুর বিভাগের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।

এর আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে ‘ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’র ভবন (দশ তলা) এবং ১০০০ আসনের ‘শেখ হাসিনা ছাত্রী হল’এর (দশ তলা) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে এভাবে হত্যা করা, এটা কখনই মেনে নেয়া যায় না। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি- যারা এর সঙ্গে জড়িত, যেকোনোভাবে তাদেরকে (দুর্বৃত্তদের) খুঁজে বের করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সর্বস্তরের জনগণের কাছে আমার একটাই আহ্বান থাকবে- বাংলার মাটিতে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান যেন না হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। আর জাঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। কারণ জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস কখনও মানুষের জীবনে শান্তি বয়ে আনে না।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের কাছে লিটন, গাইবান্ধায় পুলিশ হত্যাসহ বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর আসামি গ্রেফতার এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান।
প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালের মামলা ও দ্রুতবিচার আইনে নিষ্পত্তি হয়ে অদ্যাবধি অপরাধীদের সাজা না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন।

তিনি দ্রুত এসব মামলার চার্জশিট প্রদান এবং আসামিদের গ্রেফতারে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হবার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে। এ দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আমরা এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো।

বাংলাদেশের অধিকতর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশে সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই।

তিনি সুন্দরগঞ্জে মানুষ ও পুলিশ হত্যাসহ তাণ্ডব ও নৈরাজ্যে জড়িত বিএনপি-জামায়াতের অপরাধীদের মামলার অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে এ ব্যাপারে তৎপরতা জোরদার করতে গাইবান্ধার এসপিকে নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড.কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার ৬২৯৯টি স্থান থেকে প্রায় ৩১ লাখ মানুষ এই ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ রংপুর বিভাগের সংসদ সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান, টিপু মুন্সি, নুরুল ইসলাম সুজন, রমেশ চন্দ্র সেন, মোতাহার হোসেন।

উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গাইবাবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন সুন্দরগঞ্জের নিজ বাসভবনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।

LEAVE A REPLY