বিয়ের বয়স হ্রাসের প্রস্তাবে জাতিসংঘের উদ্বেগ

জাতিসংঘে নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (কমিটি অন দ্য এলিমিনেশন অব ডিসক্রিমিনেশন অ্যাগেইনস্ট উইমেন-সিইডিএডাব্লিউ) বাংলাদেশে নারীদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমিয়ে আনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তবে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন, মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছে জাতিসংঘের এ কমিটি।

সিইডিএডাব্লিউর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পরিবার ও সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যকার কাজ ও দায়িত্বে কিছু বৈষম্য রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বাল্যবিয়ের হার এখানে। ৬৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৮ পেরোনোর আগেই। এ অবস্থায় আইন সংশোধন করে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করার সুপারিশ মূলত বাল্যবিয়েকে ন্যায্যতা দেবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে পারিবারিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ২০১৩ সালে সরকারের গ্রহণ করা ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নীতিমালা’ এবং ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের জন্য সাধুবাদ জানানো হয়। তবে এখনও দেশে ফতোয়া, যৌতুক ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে পরিবারে ও প্রকাশ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা অহরহ চোখে পড়ে। এছাড়া বাংলাদেশে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়নি; যা উদ্বেগের কারণ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

কমিটি ওই প্রতিবেদনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সাফল্যের প্রশংসা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা শেষের আগে পড়া ছাত্রীদের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে এখনও বাল্যবিয়ে, যৌন হয়রানি, অল্প বয়সে গর্ভধারণ ইত্যাদি কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে যাচ্ছে।

এদিকে, শ্রম আইন সংশোধন করে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করায় সরকারের প্রশংসা করেছে জাতিসংঘের এই কমিটি। তবে গৃহকর্মীদের মূল শ্রমখাতে নিয়ে আসা এবং তাদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বিবাহিত নারীরা ঘরের সব কাজ করে থাকেন; কিন্তু তাদের ওই কাজের কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে বিয়ে, কাজ ও সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমান স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ তৈরিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণ কমিটি সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানায়। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু কয়েকজন নারীই রাজনীতির শিখরে পৌঁছাতে পেরেছেন। একইভাবে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে এবং স্থানীয় সরকার, পররাষ্ট্র বিভাগ, শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের সংখ্যা যৎসামান্য বলে উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রশংসা করা হয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী নারী বা পুরুষের পরিচয়ে তাদের সন্তান নাগরিকত্ব লাভ করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

LEAVE A REPLY