রাজধানীতে চলছে পৌষ মেলা

পৌষ মাসের দুই তৃতীয়াংশ দিন পার হয়ে গেছে। রাজধানীতে এখনও তীব্র শীত জেঁকে বসেনি। আর রাজধানীর বাইরে শীতের তীব্রতা শুরু হয়েছে আরও আগে। পৌষের শেষ দিকে নগরে শীতের পিঠা-পুলি আর নানান আয়োজনে রাজধানীর বাংলা একাডেমির নজরুল চত্বরে শুরু হয়েছে পৌষ মেলা।

শুক্রবার সকালে মাটির ‘আইলা’ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।এ দিন সকালে শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরীর কণ্ঠে ‘শিউলি ফোটা ভোরে’ গান দিয়ে শুরু হয় মেলার আনুষ্ঠানিকতা।

এ সময় আসাদুজ্জামান নূর সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রতি ধর্মান্ধ-মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিস্তার ও প্রসার রোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাঙালি জীবনে পৌষ মেলার প্রভাব রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক সমাজ গঠনে এ আদর্শের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’

ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন ও উৎসব সারা দেশে ছড়িয়ে দিলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুবসমাজের সম্পৃক্ততা বাড়ানো সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পৌষ মেলাকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সবার সহযোগিতা চেয়ে মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘সংস্কৃতি বাঙালির মেরুদণ্ডের মতো, শক্ত এক ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সংস্কৃতি। হাজারো বছরের এ ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আমাদের এর পরিচর্যা করতে হবে।’

গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে চাই, বাংলাদেশ হবে হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সকলের। বাংলাদেশকে আমরা সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ এক আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

মেলায় দেশীয় পিঠা-পুলিও পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে পাটিসাপটা, তালবড়া, বিবিখানা, মেণ্ডা, মোরা, ঝিনুক, দুধ চিতই, জামাই পিঠা, বউ পিঠা, ভাপা পিঠা, সিদ্ধপুলি, পাকান, খেঁজুর পিঠা, মালপোয়াসহ নানা স্বাদের পিঠা। আছে পায়েস আর ফিন্নি।

দেশীয় এসব পিঠার স্বাদ নিতে চাইলে আগামী রোববারের মধ্যে ঢুঁ মারতে হবে। সেদিন পৌষ মেলার শেষ দিন।

LEAVE A REPLY