দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে খালেদা জিয়া

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বিশেষ জজ আদালতে গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টায় পুরান ঢাকার বকশি বাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ- ৩ এর অস্থায়ী আদালতে পৌঁছেন তিনি।

এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হন খালেদা জিয়া।

বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার। তার আদালতেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনে অসমাপ্ত বক্তব্য প্রদানের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর সময়ের আবেদন দাখিল করলে আদালত তা মঞ্জুর করে ৫ জানুয়ারি অসমাপ্ত বক্তব্য দেয়ার জন্য নতুন দিন ধার্য করেছিলেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় প্রধান আসামি খালেদার ৩৪২ ধারায় অসমাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির পাশাপাশি আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদ খানকে আসামিপক্ষের অসমাপ্ত জেরার কথাও রয়েছে।

তবে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আজকের শুনানিতে প্রথমেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন দুদকের সহকারি-পরিচালক নুর আহম্মেদকে জেরা করছেন আইনজীবীরা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুদক।

মামলার তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এরপর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু করেন আদালত।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলায় অপর আসামিরা হলেন তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এর মধ্যে হারিছ চৌধুরী পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া অপর দুই আসামি জামিনে আছেন।

অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় আরো একটি মামলা করে দুদক।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

LEAVE A REPLY