দুই অধিনায়ক তত্ত্ব অচল, মনে করেন ধোনি

টেস্ট ও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আলাদা অধিনায়কের ব্যাপারটিকে খুব কার্যকর মনে করেন না মহেন্দ্র সিং ধোনি। সদ্যই সীমিত ওভারের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর তাঁর অভিমত, দ্বৈত-অধিনায়কত্ব আর যেখানেই কাজ করুক, ভারতে অন্তত কাজ করে না। অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করলেন। তাতে উঠে এল অনেক প্রসঙ্গ। তাঁর অধিনায়কত্ব ছাড়ার আসল কারণ নিয়ে গত কিছুদিন ধরে চলা গুঞ্জনের জবাবও মিলল।

বছর দু-এক আগে টেস্ট ক্রিকেট থেকে হঠাৎই অবসর নিয়ে নিয়েছিলেন ধোনি। এর পর থেকেই দুই সংস্করণে দুই অধিনায়কত্বের রাস্তায় হেঁটেছে ভারতীয় ক্রিকেট। ধোনির তুলনায় অনেক কম অভিজ্ঞ বিরাট কোহলির হাতে ছিল টেস্টের নেতৃত্ব। সীমিত ওভারের ক্রিকেট—ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির দল সামলাচ্ছিলেন ভারতকে দুটি বিশ্বকাপ জেতানো ধোনি। তবে ব্যাপারটায় মন থেকে সায় ছিল না তাঁর, ‘আমি যখন টেস্ট থেকে অবসর নিই, তখন থেকেই ব্যাপারটি নিয়ে ভেবেছি। দুই সংস্করণের দুই অধিনায়ক ধারণাটা ভারতের জন্য প্রযোজ্য নয়। এই তত্ত্ব ভারতে কাজ করে না। আমি মনে করি একটি দলের নেতা একজনই থাকা উচিত।’

এমন ভাবনা থাকলে আগে কেন তা বলেননি। ধোনি চেয়েছিলেন কোহলি অধিনায়কত্বের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিন। নতুন অধিনায়ককে তৈরি হওয়ার সুযোগটাই তিনি দিয়েছেন, ‘আমি একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। চেয়েছিলাম বিরাট অধিনায়কত্বের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিক। টেস্টের অধিনায়কত্বটা অভ্যাস করে ফেলুক।’

নিজের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সময়টা নিয়ে তৃপ্ত ধোনি, ‘আমি কেবল সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি মনে করি সামনের দিকে তাকানোর এটিই সবচেয়ে ভালো সময়। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে শুরু করে বিরাট এই টুর্নামেন্টটা যেন জিততে পারে। আমি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত থাকলে খুব একটা উনিশ-বিশ কিছু হতো না।’

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে টেস্ট অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথে। অমন সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তিরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ধোনি, ‘আমি চেয়েছিলাম ঋদ্ধিমান সাহার মতো উইকেটকিপারকে সুযোগ করে দিতে।’ ধোনির অধীনেই দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে তখন নিজেকে তৈরি করছিলেন বাংলার এই উইকেটকিপার।

টেস্ট ম্যাচটা খেলে যেতে পারতেন। কিন্তু তাকে কতটা কী লাভ হতো সেটি নিয়েই সন্দিহান ছিলেন ধোনি, ‘আমার নামের পাশে আরও ম্যাচের সংখ্যা যোগ হলে কী লাভ হতো। বৃহত্তর ছবিটির দিকে তাকান। অস্ট্রেলিয়া সফরে ঋদ্ধিমান আমাদের সঙ্গে ছিল। আমি অবসর ঘোষণা করায় সে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটা টেস্ট খেলার সুযোগ পেল। আমি জানতাম সবকিছু ঠিক থাকলে আমার পরে ঋদ্ধিই হবে উইকেটকিপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং আমি অবসর নেওয়ার পর সে অস্ট্রেলিয়াতে একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেল। কোহলির অধিনায়কত্বের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটেছে।’

ক্রিকেট-ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই ধোনির। নেই কোনো দুঃখও। ক্রিকেট জীবনটা পুরোপুরিই উপভোগ করে চলেছেন ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক, ‘ক্রিকেট জীবনে অনেক ভালো ভালো ব্যাপার ঘটেছে। কোনো আক্ষেপ নেই। এই পথচলায় চড়াই-উতরাই অবশ্যই ছিল। আমি চেষ্টা করেছি নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দিতে, ভালোভাবে তৈরি হতে।’

কাগজে-কলমে হয়তো অধিনায়ক নন, কিন্তু জানিয়েছেন কোহলিকে পরামর্শটা ঠিকই দিয়ে যাবেন। দলের উইকেটকিপারকে তিনি সহ-অধিনায়কই মনে করেন, ‘উইকেটকিপার তো দলের সহ অধিনায়কই। যখনই ওর প্রয়োজন পড়বে, আমি ওকে পরামর্শ দেব। খেয়াল রাখব অধিনায়ক কী চাচ্ছে। ফিল্ড পজিশনগুলোতে চোখ বোলাব। কোনো সমস্যা থাকলে কোহলিকে বলব।

LEAVE A REPLY