খুলনায় কলেজ শিক্ষককে খুন করে ঘরের মালামাল লুট

খুলনা মহানগরীতে এক কলেজশিক্ষককে খুন করে ঘরের মালামাল লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কলেজশিক্ষককে হাত-পা ও মুখ বেঁধে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ । নিহত চিত্তরঞ্জন বাইন (৪৫) বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া এলাকার শহীদ শেখ আবু কাশেম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।

রোববার দুপুর ২টার দিকে নগরীর শের-ই-বাংলা রোডের আমতলা এলাকায় ৫৯নং বাড়ির নিচতলায় ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত কলেজশিক্ষকের ভাইপো বাপী বাইন জানান, চিত্তরঞ্জন বাইনের স্ত্রী লাকী গোলদার এক সপ্তাহ আগে বাবার বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝড়ভাঙ্গা গ্রামে বেড়াতে যান। মায়ের সঙ্গে দুই মেয়ে প্রমা (৮) ও প্রাপ্তি (ছয় মাস) যায়। আমতলার মোড়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদের বাড়ির প্রথমতলার ভাড়া বাসায় রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন চিত্তরঞ্জন।

rt

আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে লাকি গোলদার স্বামী চিত্তরঞ্জনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা রিসিভ হয়নি। লাকী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তাঁর শ্বশুর রতন বাইনকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে রতন বাইন সেখানে গিয়ে চিত্তরঞ্জনকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনো সাড়া পাননি।

একপর্যায়ে দেখতে পান ঘরের জানালার গ্রিল কাটা। পরে প্রতিবেশী লাইলী নামের একটি মেয়ে কাটা জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দরজা খুলে দেয়। ভেতরে গিয়ে চিত্তরঞ্জন বাইনকে তাঁর শয়নকক্ষে খাটের ওপর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

দুপুর ১২টার দিকে খুলনা থানা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল তৈরি এবং বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন।

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস পাল বলেন , চিত্তরঞ্জনের দুই হাত, দুই পা ও মুখ বেঁধে ফেলে দুষ্কৃতকারীরা। চিত্তরঞ্জনের মাথার ডান পাশে ও ডান পায়ে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তাঁর মাথা ও পায়ে আঘাতের কারণে রক্ত জমে থাকার চিহ্ন দেখা গেছে। দুর্বৃত্তরা চিত্তরঞ্জনকে হত্যার পর আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

LEAVE A REPLY