বগুড়ায় লুটের স্বর্ণের অর্ধেকও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

বগুড়া শহরের ব্যস্ততম সাতমাথার পাশের নিউমার্কেটে শনিবার সন্ধ্যায় বোমা ফাটিয়ে আল-হাসান জুয়েলার্স নামের স্বর্ণের দোকান লুটের ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালের অর্ধেকও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। লুটের সময় ব্যবসায়ী গুলজার রহমানকে গুলিও করে দুর্বৃত্তরা।

আল-হাসান জুয়েলার্সের মালিক গুলজার রহমান গতকাল শনিবার দাবি করেছেন, দোকানের সিন্দুক ও শোকেস ভেঙে দুর্বৃত্তরা কমপক্ষে ৬০০ থেকে ৭০০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করেছে। এর মধ্যে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস থেকে পুলিশ ৩০০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। পুলিশ বলছে, তারা আটক মাইক্রোবাস থেকে যেভাবে বস্তাভর্তি স্বর্ণ পেয়েছে, সেভাবেই তা জব্দ করে থানা হেফাজতে রেখেছে। পুরো ডাকাত দলকে ধরা গেলে কতটুকু স্বর্ণ খোয়া গেছে, সেটাও জানা যাবে।
এদিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুয়েলার্স মালিক গুলজার রহমান শঙ্কামুক্ত হওয়ায় আজ রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।
হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান আবদুল মোত্তালেব হোসেন দুপুর ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, গুলজার রহমানের শরীরের ভেতরে গুলি নেই। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে পায়ের মাংসপেশি সামান্য জখম হয়েছে। তাঁকে সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গুলজার রহমান বলেন, তিনি এখন শারীরিকভাবে সুস্থতা বোধ করছেন। তবে লুণ্ঠিত মালামালের অর্ধেকও উদ্ধার না হওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তিনি।
এদিকে দুর্ধর্ষ এই ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন আরও দুজনকে আটক করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। গত রাতেই মাইক্রোবাস ধাওয়া করে একজনকে আটক করে পুলিশ।
তবে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ হোসেন নতুন করে কাউকে আটকের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করেন। সব জানানো হবে। ডাকাতদের কারা ডেকে এনেছিল, তাদের মুখোশও খুলে দেওয়া হবে।’
ওসি বলেন, ডাকাতির ঘটনায় রাতেই দোকানমালিক গুলজার হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আর আটক মাইক্রোবাস থেকে যেভাবে বস্তাভর্তি লুণ্ঠিত মালামাল পাওয়া গেছে, সেভাবেই তা থানায় এনে জব্দ করা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৪ কেজি।
গত শনিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে বগুড়া নিউমার্কেট-সংলগ্ন গোল্ডেন মার্কেটের আল-আমিন জুয়েলার্সে হানা দেয় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা। এরপর মালিককে গুলি করে পুরো দোকান লুট করে। দুর্বৃত্তদের আরেকটি দল বাইরে সড়কে উপর্যুপরি বোমা ফাটিয়ে মাইক্রোবাসে পালিয়ে যায়। বোমার স্প্লিন্টারে আহত হন দুই পথচারী।
পরে শাজাহানপুর থানা-পুলিশ ধাওয়া দিলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের নয়মাইল এলাকায় মাইক্রোবাস ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে আহত অবস্থায় আটক করা হয় দুর্বৃত্ত দলের এক সদস্যকে।

LEAVE A REPLY