কয়রা আ’লীগের সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতিবাদে এবং থানার ওসি’র অপসারণ দাবি

খুলনার কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার সরদারের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের প্রতিবাদ ও থানার ওসি’র অপসারণের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ। রবিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, গত ১২ জানুয়ারি কয়রা প্রেসক্লাবে কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার সরদার উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা,বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমুলক তথ্য উপস্থাপন করে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।

প্রকৃত ঘটনা হল- গত ১১ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের মৌন মানববন্ধন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে আমরা কয়রা থানার ওসি’র যাবতীয় অপকর্ম এবং কয়রায় উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ শুন্য করার ষড়যন্ত্রের কথা উপস্থাপন করে তার অপসারণের দাবী জানিয়েছিলাম।

পরদিন, ১২ জানুয়ারি কয়রা প্রেসক্লাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার সরদার কয়রা থানার ওসিকে রক্ষার উদ্দেশ্যে এবং তাকে খুশি করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কল্প-কাহিনী উপস্থাপন করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। শুধু তাই নয়; এরপর কয়রার সচেতন নাগরিক ব্যানারে বিজয় কুমার সরদারের নেতৃত্বে মানববন্ধনে হাস্যকরভাবে আমাকে কয়রা থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে।

তিনি আরও বলেন, কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহসিন রেজাও কয়রা থানার ওসি’র দ্বারা হেনস্তা হচ্ছেন বার বার। এছাড়া বিজয় কুমার সরদারের নির্যাতন-নিপীড়নে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম ইব্রাহিমের সাথে যোগাযোগ করলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ওপর বিজয় কুমার সরদারের নির্যাতন-নিপীড়নের ফিরিস্তি জানতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, গত ২৩ মার্চ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বনাম বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনাকে একটি পক্ষ পুঁজি করে কয়রা থানায় আমার নামে মিথ্যা মামলা দেয়ার চেষ্টা করে। তৎকালীন কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবু হরেন্দ্রনাথ সরকার বিষয়টি তদন্ত করে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তিনি মামলা গ্রহণ করেন নি।

পরবর্তীতে ২৭ মার্চ আমাকেসহ ১৩ জন ছাত্রনেতার নামে ২৩ মার্চের নির্বাচনী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হয়রানিমূলক মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা কয়রা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করে। এই মামলার বিপক্ষে দ্রুত বিচার আদালত খুলনা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর ২৩ মার্চের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয় প্রকৃত ঘটনা উপস্থাপন করার জন্য।

বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার আদালত পিবিআই কে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। কয়রা আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কয়রা থানাকে মামলা গ্রহণ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। পিবিআই এর তদন্ত প্রতিবেদন গত ২৬ জুন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে ২৩ মার্চের ঘটনায় শুধুমাত্র নির্বাচন পরবর্তী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার বিষয় প্রমাণিত হয়।

খুলনা থাকাকালীন গত ১ ডিসেম্বর আমি জানতে পারলাম কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এর কামরায় স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে গত ২৭ মার্চের মামলার চার্জশটি জমা দেয়। এবং ঐ মামলায় যারা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দেয় তাদের জামিন না মঞ্জুর হয়।

বিষয়টি আমার কাছে সন্দেহের মনে হলো। আমি উকিল মারফত চার্জশীটের নকল উঠিয়ে জানতে পারলাম চার্জশীট সই হয়েছে গত ৩০ সেপ্টেম্বরে। চার্জশীট সই হওয়ার পরে এক সপ্তাহ থেকে পনেরো দিনের ভিতর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেয়ার নিয়ম কিন্তু ২৩ অক্টোবর আদালতের তারিখ থাকা সত্ত্বেও কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঐদিন জমা না দিয়ে চার্জশীট সইয়ের ২ মাস পর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশীট জমা দেয়। যাহা আমরা বাদী-বিবাদী কেউ-ই জানতে পারি নি।

চেয়ারম্যান বিজয় কুমার সরদার এবং ওসি’র যোগসাজসে এমনটি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান। তার বিরুদ্ধে কয়রা থানায় কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বা চাঁদাবাজীর মামলা নেই উল্লেখ্য করে অবিলম্বে বিজয় কুমার সরদারের অপকর্মের তদন্ত করে কয়রা থেকে বিতাড়িত করে কয়রায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। একই সাথে দুর্নীতিবাজ ওসি শমসের আলীকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি কয়রাবাসীর। সংবাদ সম্মেলনে কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY