বাউন্সারের অস্ত্রে আপত্তি নেই তামিমের

বাউন্সার নিয়ে কম কথা হয়নি ক্রিকেট ইতিহাসে। ওয়েলিংটন টেস্টে যেভাবে শর্ট বলের ছোবল ব্যাটসম্যানদের আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করল, নতুন করে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশের পেসার কামরুল ইসলামের শর্ট বল রক্তাক্ত করেছিল নিল ওয়াগনারকে। আজ টেস্টের পঞ্চম দিন সকালে টিম সাউদির বলে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে যেতে হলো হাসপাতালে।

ফিল হিউজের দুঃখজনক পরিণতির পর শর্ট বল নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই ক্রিকেটে। তবে তামিম ইকবাল মনে করেন, ‘শর্ট বল নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নেই। এটি ক্রিকেটেরই অংশ। শর্ট বল তাদের কৌশলের অংশ। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমি নিশ্চিত, এ ব্যাপারে মুশফিকেরও কোনো অভিযোগ নেই।’
সহাস্য তামিম বলেছেন, সব দলই নিজের শক্তি আর কন্ডিশনের ফায়দা নেয়, ‘নিউজিল্যান্ড যখন বাংলাদেশে আসে, তারা নিশ্চয়ই স্পিন খেলতে অসহ্য বোধ করে। আমরা সারা দিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে স্পিনার দিয়ে বল করিয়ে যাই। এখানেও ওরা শর্ট বল করবে, সেটাই স্বাভাবিক।’
মুশফিকের আঘাতটা হয়তো তেমন গুরুতর নয়। কিন্তু পুরো ব্যাপারটিই শঙ্কা ছড়িয়েছিল সবার মধ্যে। হিউজের পরিণতির কথা চিন্তা করে ভয়টা বেশিই কাজ করেছিল সবার। বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম বলেছেন, ‘ওর মাথায় হালকা আঘাত পেয়েছে। ফিজিও ও দলের চিকিৎসা দল খুবই সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলাবে। সামনের কিছুদিন ওকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ও আবার খেলায় ফিরবে।’
নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেছেন, ‘এটা ব্যাটসম্যানদের আউট করারই একটা কৌশল। কেউ আঘাত পাওয়াটা অবশ্যই দুর্ভাগ্যের। ব্যাপারটি স্পর্শকাতর বলে যখন এমনটা ঘটে, দুই দলই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। কেউ চাইবে না ক্রিকেট মাঠ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কেউ বের হয়ে যাক। ও সুস্থ আছে জেনে ভালো লাগছে।’
বাউন্সার নিয়ে এত প্রশ্ন তোলারও কারণ দেখেন না উইলিয়ামসন, ‘একটা সময় তো হেলমেটও ছিল না। আমরা সৌভাগ্যবান এখন কত নিরাপত্তা উপকরণ আছে। তবে মাথায় আঘাত পেয়ে কারও অসুস্থ হওয়াটাকে আমি ব্যতিক্রম দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বলব। টেস্ট ম্যাচে কখনো কখনো এমনটা ঘটবেই না, আবার ম্যাচের প্রয়োজনে কখনো দেখবেন একাধিকবার ঘটছে। আমাদের নিল ওয়াগনারই যেমন দশবারের মতো আঘাত পেল, বাংলাদেশেরও কজন খেলোয়াড় পেয়েছে।’

LEAVE A REPLY