সিলেটে ঝুমাকে কোপানোর ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুরের রসুলপুর গ্রামে কলেজছাত্রী ঝুমাকে কোপানোর ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। গতকাল রোববার একই গ্রামের বাহার (২২) নামের এক যুবক তাঁকে কোপায় বলে জানা গেছে।

রসুলপুর গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের মেয়ে ঝুমা জকিগঞ্জের ইছামতি ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

ঝুমার মা করিমা বেগম বলেন, ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করতে ঝুমাকে নিয়ে বের হন তিনি। পথে একই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে বাহার উদ্দিন (২২) গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঝুমাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

বাহার তিন বছর ধরে ঝুমাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দিলে ঝুমা রাজি না হওয়ায় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান খান জানান, কলেজছাত্রী আহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চিকিৎসা করাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। ফলে মামলা করতে বিলম্বিত হচ্ছে। তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাহারের এক ভাইকে আটক করেছে। তাকেও আটকের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবদুল কাদির বলেন, রোববার ঘটনার সময় রসুলপুর গ্রামে একটি বাড়িতে আমরা সালিশি বৈঠকে ছিলাম। এ সময় সুমার মা দৌড়ে এসে তাঁর মেয়েকে বাঁচাতে বলেন। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। এ সময় সে জানায়, বাহার তাকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। ঝুমাকে বিরক্ত করতো বাহার। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশও হয়েছে। বাহার কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়ালেখা শেষে এখন ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করেন।

আবদুল কাদির বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় সুমাকে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই আমরা। পরে ওসমানী হাসপাতালে এনে তাকে ভর্তি করি। বাহার কিছুদিন ধরে সুমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে বাহারের প্রস্তাবে সুমা রাজি হচ্ছিল না। ঝুমার হাতে তিনটি এবং পেটে একটি ছুরিকাঘাত রয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই উন্নতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY