ঘুম কমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়

শুধু চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান বা অ্যালকোহলই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় না, কম ঘুমও ডেকে আনতে পারে এমন বিপদ। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক নূন্যতম ৬-৭ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। অন্যথায় যে কোন সময় হৃদযন্ত্রে আসতে পারে আঘাত।

শহুরে ব্যস্ত জীবনে খুব কম মানুষই আছেন যারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন। যাদের তেমন কাজ নেই, বাড়িতে শুয়ে-বসে সময় কাটান তারা পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারলেও সেটা হয় অনিয়মিত। কখনো দুপুরে, কখনো বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, এরপর গভীর রাত অবধি জেগে জেগে টিভি দেখা বা ফেসবুকিং। এটাও আপনার শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে নষ্ট করবে। আর যাদের কাজের ব্যস্ততা, সারাদিন বাইরে বাইরে থাকতে হয়, বাসায় ফিরতে হয় অফিসের একগাদা কাজের চাপ নিয়ে, এরপর পরিবারের নানা কাজে সময় দিতে হয়, তাদের বেলায় ঘুম অনেকটা সোনার হরিণ হয়ে যায়। একটা সময় সে চাইলেও ঘুমাতে পারে না। জরিপে বেরিয়ে এসেছে শহুরে মানুষের একটা বড় অংশই পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারে না। এটা তাদের ডায়াবেটিস, প্রেসার, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কম ঘুম মানেই উদ্বেগ, ডিপ্রেশন, অল্পে বিরক্তি, খিটখিটে স্বভাব, মোটিভেশনের অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার অভাব, মনোযোগের অভাব, পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করার প্রবণতা বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, চিকিত্সকদের দাবি, ঘুমের মধ্যেই ঘটে যাবে হার্ট অ্যাটাক। সুস্থ থাকতে খেলাধুলা, শরীরচর্চা কিছুই কাজে লাগবে না। যতই খান পুষ্টিকর খাবার, যতই ওজন রাখুন আয়ত্তে, ৬-৭ ঘণ্টার কম ঘুম মানেই মৃত্যুকে হাতছানি দিয়ে ডাকা।

আমেরিকার ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের ঘুম বিশেষজ্ঞদের দাবি, ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের রাতে অন্তত ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের রাতে অন্তত ৯-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। টিনএজার অর্থাত্‍ ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ঘুমোতে হবে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ অর্থাত্‍ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের ঘুম প্রয়োজন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা। ২৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ঘুমাতে হবে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা। ৬৫ বা তার বেশি বয়সীদের নিউরনের একটি অংশ নষ্ট হতে থাকে। ফলে ঘুম কমে যায়। কিন্তু ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতেই হবে।

৫ ঘণ্টার কম ঘুমালে ব্লাড প্রেশার বাড়বে ৩৫০ থেকে ৫০০ শতাংশ। হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় ৩৯ শতাংশ। সারাদিন শরীর থাকবে ক্লান্ত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকবে। ৬ ঘণ্টার কম ঘুমোলে হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে ৮ শতাংশ।

বিডিপ্রতিদিন

LEAVE A REPLY