ঢাকায় কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী

১৩ বছর বয়সের মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের অসংখ্য চিহ্ন। বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের সাতপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে। ঢাকায় কাজ করতে গিয়েছিল একই ইউনিয়নের বাসিন্দা এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায়। সেখানে নানা কারণে শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাতপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র জিতেন বিশ্বাসের শিশুকন্যা ইভা বিশ্বাসকে পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে চার বছর আগে ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করানোর জন্য নিয়ে যান একই ইউনিয়নের গোলদারপাড় গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত গোলদার। তিনি ঢাকার শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু গৃহস্থালি কাজকর্ম না করতে পারার কারণে সুব্রতর স্ত্রী সুমী গোলদার তাকে মারধর করতেন। শরীরে গরম ছ্যাঁকা দেওয়াসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। মারপিটের কারণে হাত, পিঠ, মাথাসহ বিভিন্ন স্থান কেটে যায়—এমন চিহ্ন রয়েছে ওই শিশুর শরীরে।

শিশুটির ভাবি পারুল বিশ্বাস বলেন, ‘ইভা গৃহস্থালি কাজ ঠিকমতো করতে পারত না। এ জন্য তাকে প্রতিনিয়ত মারধর করা হতো। এ খবর পেয়ে ২০ দিন আগে শিশুটির মা শান্তি বিশ্বাসসহ আমরা ওকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসি।’

শিশুটির ওপর নির্যাতনের কথা স্বীকার করে সুব্রতর বাবা কালিপদ গোলদার বলেন, ‘তার চিকিৎসার দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। এ ঘটনার পর থেকে আমার ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে আমি কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক সুব্রত গোলদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইভা আমার বাসায় থাকতে তার ওপর নির্যাতনের কথা আমাকে বলেনি। বাড়ি যাওয়ার পর এসব কথা শোনা যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছি শিশুটির চিকিৎসা করাতে। চিকিৎসার সব খরচ আমি দেব। এ ছাড়া শিশুটি বড় হয়ে বিয়ে হওয়া পর্যন্ত আমি তাকে সাহায্য করব বলে শিশুটির পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছি।’

‘বিষয়টি অমানবিক হয়েছে’ মন্তব্য করে সাতপাড় ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সুজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘আমি শিশুটিকে দেখেছি। তার সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। সুব্রতর বাবা শিশুটিকে চিকিৎসা করাচ্ছেন।’ বিষয়টি এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। আগামী শুক্রবার এ নিয়ে এলাকায় বৈঠক হবে।

LEAVE A REPLY