দুদকের ফাঁদে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী

ফাঁদ পেতে ঘুষের টাকাসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুর সদরের পালং বাজারের একটি হোটেল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে।

দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মজুমদার মো. মাহফুজুর রহমান মাদারীপুর জেলার ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অফিসের উপসহকারী পরিচালক (শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব)। ঘুষ গ্রহণে তাঁকে সহযোগিতা করার অভিযোগে ভোলা জেলার ফায়ার সার্ভিস অফিসের উচ্চমান সহকারী সাজ্জাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, গত ৬ ডিসেম্বর শরীয়তপুরে তুলি ফার্নিচার অ্যান্ড স্টিল নামের একটিসহ ছয়টি দোকান আগুনে পুড়ে যায়। ওই দোকানের মালিক আ. হাকিম মাতবর ও আরও দুই ব্যবসায়ী ন্যাশনাল ব্যাংকের শরীয়তপুর শাখা থেকে নগদ টাকা (সিসি ঋণ) নিয়েছিলেন। ওই ঋণের বিপরীতে সিকদার ইন্স্যুরেন্সে এ বিমা করা ছিল। তাঁদের বিমা দাবির জন্য সংশ্লিষ্ট ফায়ার সার্ভিস অফিসের প্রতিবেদন প্রয়োজন ছিল।

সূত্র আরও জানায়, প্রতিবেদনের জন্য ফায়ার সার্ভিস অফিসে গেলে উপসহকারী পরিচালক মজুমদার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিপূরণের জন্য যত টাকার ক্ষতি প্রতিবেদন দেওয়া হবে, তার তিন শতাংশ হারে তিন লাখ ৪৮ হাজার টাকা তাঁকে দিতে হবে। অনেক দর-কষাকষির পর দুই লাখ টাকা না দিলে প্রতিবেদন দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। পরে তিন ব্যবসায়ীর অনুরোধে এক লাখ টাকায় প্রতিবেদন দিতে সম্মত হন ওই কর্মকর্তা।

সূত্র জানায়, শর্ত অনুসারে ঘুষের প্রথম কিস্তি বাবদ আজ ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার দিন ধার্য হয়। বিষয়টি তাঁরা দুদককে অবহিত করলে সব আইনানুগ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ছয় সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। আজ সকাল থেকে দলের সদস্যরা শরীয়তপুর সদরে অবস্থিত পালং বাজারের সুরুচি হোটেলের ভেতর ও বাইরে ওত পেতে থাকেন। দুপুরে ওই হোটেলে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে তাঁকে গ্রেপ্তার হরা হয়। এ সময় ভোলা জেলার ফায়ার সার্ভিস অফিসের উচ্চমান সহকারী সাজ্জাদুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করে দলটি। ভোলায় দায়িত্বরত হলেও তিনি অফিসের অনুমতি ছাড়াই শরীয়তপুরে ছিলেন। একই সঙ্গে ঘুষ লেনদের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন।

দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন এ ঘটনায় পালং থানায় একটি মামলা করেন।

LEAVE A REPLY