দেশে ডিজিটাল ভূমি তথ্যভান্ডার হচ্ছে

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেছেন, ‘সারা দেশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ভূমির ডিজিটাল তথ্যভান্ডার থেকে রেকর্ড ও নকশা দেওয়া হবে। ভূমির মালিকেরা দাগ, খতিয়ান ও নকশা কম্পিউটারে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। আগের মতো হারিয়ে যাওয়া, মুছে ফেলা, ছিঁড়ে ফেলা বা পরিবর্তন হওয়ার কোনো ভয় থাকবে না। জমির মালিকানা পরিবর্তন হলে আপডেটও করা যাবে। বারবার জরিপ করা লাগবে না। এতে জমির মালিকানা বিরোধ অনেক কমে যাবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের সেটেলমেন্ট কার্যালয় মাঠে ‘ডিজিটাল রেকর্ড প্রকাশনা ও সমন্বিত ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ওই সব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশে জনসংখ্যার তুলনায় জমির পরিমাণ খুব কম। প্রতিদিন জমির চাহিদা ও মূল্য বাড়ছে। দুর্বল জমির মালিকেরা শঙ্কার মধ্যে থাকেন। আমরা কোনোভাবেই জমির মালিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে দেব না। দেশে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ভূমির অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে এই প্রকল্প এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে জরিপ কার্যক্রমে পৃথিবীর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে জমির মালিকদের অংশগ্রহণ ও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে; যা অতীতের জরিপ ও রেকর্ড কার্যক্রম থেকে ব্যতিক্রম। বর্তমান সরকার ভূমির মালিকানাকে নিরাপদ ও টেকসই করার পাশাপাশি ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া ও বাস্তুহীন মানুষের জন্য বাসস্থান তৈরি করে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন, দেশে কোনো মানুষ বাস্তুহীন থাকবে না। ২০১৮ সালের মধ্যে ৫০ হাজার পরিবারকে গৃহ সংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেনদেনিং অ্যাকসেস টু ল্যান্ড অ্যান্ড প্রোপার্টি রাইটস ফর অল সিটিজেনস অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় জামালপুরের জোনাল সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের মাঠে ‘ডিজিটাল রেকর্ড প্রকাশনা ও সমন্বিত ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ আবদুল আহাদ। এতে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জামালপুর-৫ আসনের সাংসদ মো. রেজাউল করিম হীরা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মেছবাহ উল আলম, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান ও প্রকল্পের দাতা সংস্থা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মারিও রনকোনি।

LEAVE A REPLY