জবি প্রক্টরের কর্মচারির নির্দেশে বন্ধ ক্যান্টিন, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

জবি করেসপন্ডেন্টঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তিনটি ক্যান্টিনই বিনা নোটিশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাজে চরম ক্ষোভের দেখা দিয়েছে। অভিযোগ আছে, জবি প্রক্টর দপতরের কর্মচারি কাজী মনির তার নিজস্ব এখতিয়ারে ক্যান্টিন বন্ধ রাখার ঘোষনা দিয়েছেন।

রোববার (২২জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ক্যান্টিন অবকাশ ভবন, টিচার্চ ক্যাপটেরিয়া, রেভ্যুনাস প্লাস বন্ধ পাওয়া গেছে।

নারায়নগঞ্জ থেকে আসা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি অভিযোগ করে বলেন, সকাল আটটায় আামাদের ক্লাস ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে প্রতিদিনের মত আজও বাসা থেকে ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে নাস্তা করতে আসলাম । এসে দেখি তিনটি ক্যান্টিই বন্ধ।বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনে পাটুয়াটুলিতে ক্লাসের ফাকে নাস্তা করেছি। তবে নোটিশ ছাড়া ক্যান্টিন বন্ধ করা ঠিক হয় নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে ইংরেজী বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী তরিকুল বলেন, আমিতো নতুন এসেছি ক্যাম্পাসে । সেদিন দেখলাম ক্যান্টিন নিয়ে বড় ভাইয়া আপুরা প্রশাসনকে যে আল্টিমেটাম দিলো সেজন্য বোধ হয় আজ বন্ধ হয়ে গেছে ক্যান্টিন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অবকাশ ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রিত ক্যান্টিনের পরিচালক আমজাদ হোসেদ বলেন, আমাদের মৌখিকভাবে আজ ক্যান্টিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
কে বা কার নির্দেশে ক্যান্টিন বন্ধ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জবির প্রক্টর অফিসের কাজী মনির স্যার মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন।

ক্যান্টিনে ক্যাশের দায়িত্বে থাকা পারভেজ বলেন, কাজী মনির স্যার আমাদের সবাইকে বলছে, কাল ক্যান্টিন বন্ধ রেখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসও বন্ধ থাকতে পারে।

কাজী মনিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

এদিকে ক্যান্টিন বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যান পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন , আমার দফতর থেকে ক্যান্টি বন্ধ রাখার কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

জবি অবকাশ ভবনের ক্যান্টিন পরিচালক আমজাদ হোসেন বরাত দিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ের কাজী মনির ক্যান্টিন বন্ধ করার এখতিয়ার আছে কিনা জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, না। এটা মনির দিতে পারেন না। তিনি ক্যান্টিনের কেউ না ।আমি তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইব কেন সে এ নির্দেশ দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্র কল্যানের সাবেক পরিচালক ও নীল দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমেদ বিষয়টি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু খোলা সেহেতু ক্যান্টিও খোলা থাকা স্বাভাবিক।

LEAVE A REPLY