সুনামগঞ্জের সীমান্তে ভুমিকম্পে ভবন ধ্বস আতঙ্ক, বিদ্যালয়ে কমছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীর সংখ্যা

ভুমিকম্পে ভবন ধ্বস আতংকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পাঠগ্রহনে আসার আগ্রহ দিনে দিনে হারিয়ে ফেলছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চারাগাঁও-বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অবিভাবকরাও তাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভবন ধ্বসে হতাহতের আশংকায় ভুগছেন বছরের পর বছর ধরে। ঝরে পড়ার সংখ্যা বৃদ্ধিও পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর নিয়মিত পাঠ গ্রহনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলেও বিষয়টি নজরে আসেনি উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শিক্ষা অফিসের দায়িত্বশীলদের।’
সরেজমিনে শনিবার গিয়ে আলাপকালে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৩৩ শতাংশ জায়গার উপর ১৯৯০ সালে বাঁশতলা-চারাগাঁও রেজিষ্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি করন হয়। ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে এলজিইডির তত্বাবধানে অফিস কক্ষ সহ তিনটি শ্রেণী কক্ষ বিশিষ্ট পাঁকা ভবন নির্মাণ করে দেয়া হয়। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দ্বারা ভবন তৈরী করার ফলে বছর খানেক যেতে না যেতেই ছাদ, দেয়ালের প্লাষ্টার,ইট, সুরকি খঁসে পড়তে থাকে। ইতিপুর্বে তিন দফা ভুমিকম্পে ওই বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষের দেয়াল ও ছাদে ফাটল ধরে অধিকাংশ স্থান ধ্বসে পড়েছে। ভাঙ্গা ছাদে বৃষ্টির পানি পড়া ঠেকাতে দেয়া হয়েছে টিনের চালা।দেয়ালে ফাটল রোধে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের চটি।’
২০১৬ সালে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩২০ জন। ২০১৭ সালে ২১ জানুয়ারী শনিবর পর্য্যন্ত ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখা গেছে ২৯২ জন। বিদ্যালয়ে মঞ্জুরী কৃত শিক্ষকের সংখ্যা প্রধান শিক্ষক সহ ৫ জন থকলে কর্মরত রয়েছেন প্রধান শিক্ষক সহ ৪ জন।
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী স্মৃতি ও তৃতীয়ৎ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাবিব আহমেদ জানায়, আমাদের সহপাঠীদের অনেকেই স্কুলের ছাদ ভাইঙ্গা মাথা ফাটনের ভয়ে নিয়মিত ক্লাসে ই আসেতে চায়না।’
চতৃর্থ শ্রেণীর মারিয়া ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জাভাল সহ অসংখ্য শিক্ষার্থী শনিবার তাদের বিদ্যালয়ে গেলে এ প্রতিনিধিকে জানায়, আমরা ভয়ে ভয়ে পাঠগ্রহন করি, বসার জায়গা নাই, প্লাষ্টিকের চট বিছাইয়া দু’ শ্রেণীর ( ১ম-২য়) ও (৪র্থ-৫ম) শ্রেণীর ক্লাস এক সাথে গাধাগাধি টেরা টেলি করে হৈ চৈর মধ্যেই নেয়া হয়। ’ তারা আরো বলে অন্য স্কুলে ছাত্র/ ছাত্রীর সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ে আর আমরার স্কুওল বিল্ডিং ভাঙ্গার ডরে ( ভয়ে) খালি ছাত্র/ ছাত্রীর সংখ্যা কমতেই থাকে।’
ছাত্র অবিভাবক আব্দুল মোতালেব ও সাদ্দাম হোসেন বলেন, স্কুল ভবনের ফাটল আর শ্রেণী কক্ষ সংকটের কারনে আমরা অবিভাবকরা প্রতিদিন দু:শ্চিন্তা মাথায় নিয়ে শিশুদেও স্কুলে পাঠাইি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ বলেন, গত ২০ বছর ধরেই বিদ্যালয়ের এ দুরবস্থার কথা লিখিত ভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাা অফিস ও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে কিন্তু তারা নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা এ ভবনটি সংস্কারে জন্য কোন রকম উদ্যোগ নিতে আগ্রহি না। ’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা খাতুন রুবা বলেন, শিক্ষক শিক্ষার্থী , অবিভাবক সবাই আমরা ভবন ধ্বসে হতাহতের আতংকে ভুগছি, বিষয়টি প্রতিমাসেই লিখিত ভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে অবহিত করে আসছি কিন্তু কোন ব্যবস্থাই নেয়ার লক্ষণ দেখছি না।’
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান তালুকদারের নিকট এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে শনিবার তিনি বলেন, বাঁশতলা–চারাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের এ অবস্থার কথা আমার জানা নেই।’
তাহিরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম রাব্বী জাহান বলেন, উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় বাঁশতলা চারাগাঁও সহ অন্যান্য ১০টি জরাজীর্ণ বিদ্যালয় গুলোতে মেরামত ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন ব্যায় নির্ধারণ করে লিখিত ভাবে উপজেলা প্রকৌশল অফিসকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা বারবার উদাসীনতা দেখিয়ে যাচ্ছেন।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান শনিবার বলেন, আমি নিজেই বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যাব ও দ্রুত মেরামত ও নতুন ভবন তৈরী করার জন্য উপজেলা প্রকৌশল অফিসকে বলব।

LEAVE A REPLY