শুভ জন্মদিন নায়ক রাজ

আজ ২৩ জানুয়ারি, কিংবদন্তি অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক রাজ রাজ্জাকের জন্মদিন। ৭৫ শেষ করে পা রাখলেন  ৭৬ বছরে।

পারিবারিক নাম আব্দুর রাজ্জাক, যিনি নায়করাজ রাজ্জাক নামে সুপরিচিত, একজন বিখ্যাত বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেতা। ষাটের দশকের মাঝের দিকে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ষাটের দশকের বাকি বছরগুলোতে এবং সত্তরের দশকেও তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাজ্জাক পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।

তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে “ঘরোয়া” নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগড় লেন চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। পরবর্তীতে কার বউ, ডাক বাবু, আখেরী স্টেশন-সহ আরও বেশ ক’টি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ও করে ফেলেন। পরে বেহুলা চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে উপস্থিত হন সদর্পে।

তিনি প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।তাঁর আলোচিত সিনেমার মধ্যে রয়েছে বাবা কেন চাকর, ওরা ১১ জন, রাজলক্ষী শ্রীকান্ত, ময়নামতি, মধু মিলন, পীচ ঢালা পথ,  যে আগুনে পুড়ি,  জীবন থেকে নেয়া, অবুঝ মন,  রংবাজ, বেঈমান, আলোর মিছিল, অশিক্ষিত, অনন্ত প্রেম ইত্যাদি।

নায়করাজ রাজ্জাক বলেন, ‘দেখতে দেখতে আজ ৭৫ বছর পূর্ণ করে ৭৬-এ পা রাখছি। আল্লাহর রহমত এবং সবার দোয়ায় এখনো বেশ সুস্থ আছি। আমার স্ত্রী লক্ষী বিয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক ভালোবাসা নিয়ে সংসারকে আগলে রেখেছে। তার কাছে সত্যিই আমার অনেক ঋণ। আমার সন্তানরা মানুষের মতো মানুষ হয়েছে। বাবা হিসেবে এ আমার অনেক পরিতৃপ্তির বিষয়, গর্বেরও’।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নায়করাজ রাজ্জাক ৭ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তবে চলচ্চিত্রে একমাত্র তিনিই জীবদ্দশায় প্রথম দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’এ ভূষিত হন।ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY