কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় দফা দাবিতে সোমবারও ২য় দিনের মত লাগাতার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি পালন করেছে  শিক্ষকরা। শিক্ষক আন্দোলনের দুই দিনে মোট ১০টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে ক্লাসে ফেরার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সোমবারও বিক্ষোভ করেছেন ।

জানা যায়, ১৭ জানুয়ারি গভীর রাতে দুই শিক্ষকের বাসায় পরিকল্পিত হামলার দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা, শিক্ষক লাঞ্ছনায় অভিযুক্ত ডিন এম এম শরীফুল করীমকে তদন্ত চলাকালীন সময়ে সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া, শিক্ষক লাঞ্ছনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতে শিক্ষকদের প্রতিনিধি শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে অর্ন্তভুক্তকরণ, বিভিন্ন ঘটনায় বিতর্কিত নব নিযুক্ত প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে সকল ধরনের প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া, উপাচার্যের উপস্থিতিতে শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের শিক্ষকদের উপর হামলাকারী অধ্যাপক ড. সৈয়দুর রহমানকে আইকিউএসি থেকে অপসারণ ও উক্ত ঘটনার বিচার করা এবং গতবছরের পহেলা আগস্ট ঘটে যাওয়া খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করা। এ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা।

ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ২য় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ বিভাগে কোন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। একই সাথে সোমবার বিভিন্ন বিভাগে সেমিস্টারের চারটি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী জানান, সোমবার স্নাতক পর্যায়ে ফার্মেসী, পদার্থ বিজ্ঞান, লোক প্রশাসন বিভাগের ১টি করে চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১টি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এর আগে শিক্ষক আন্দোলনের প্রথম দিন রবিবার ৫টি বিভাগের মোট ৬টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

অপর দিকে ক্লাসে ফেরার দাবিতে সোমবারও ক্যাম্পাসের কাঁঠাল তলায় ও মূল ফটকে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। এসময় ক্লাসে ফেরার দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে রোববারও শিক্ষকদের বাসায় হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা।
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবু তাহের বলেন, ‘সোমবার দুপুরে আমরা উপাচার্য মহাদয়ের সাথে দেখা করি। কিন্তু তিনি দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখাতে পারেননি। তাই আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী সভা শেষে শিক্ষক নেতারা উপাচার্যের সাথে দেখা করে সন্তোষজনক পদক্ষেপের আশ্বাস না পেয়ে এ আন্দোলনের ডাক দেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৬ দফা দাবিতে রবিবার থেকে লাগাতার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের বিষয়টি জানান হয়।

LEAVE A REPLY