“ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ: বৈষম্য এবং বেকারত্ব”

বাংলাদেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীকে স্নাতক আর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে   পঁচিশ বছর লেগে যায়। সরকারি বা একটি ভালো মানসম্মত চাকুরী পেতে আরো কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্য পরিক্রমায় এর আগেও চাকুরী হয়ে যায়। তবে অধিকাংশের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম।

গত কয়েকদিন ধরে পত্রিকার বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে যেখানে বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাকুরী প্রার্থীদেরকে হতাশ করছে। ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সোশাল ইসলামি  ব্যাংক সহ আরও কিছু ব্যাংক / আর্থিক প্রতিষ্ঠান জনবল নিয়োগের যে শর্ত আরোপ করেছে, তাতে চাকুরীতে যোগদান করা অনেকাংশে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। সাংবিধানিক আইন আর ব্যাংকিং আইন এক্ষেত্রে সংঘর্ষ সৃষ্টি করছে। যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন আইনসংগত পেশা বা বৃত্তি গ্রহনের এবং যে কোন আইনসংগত কারবার বা ব্যবসায় পরিচালনার অধিকার থাকিবে(*১)। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে(*২)। রাষ্ট্র একজন নাগরিক কে সুযোগ দিচ্ছে আর অন্যদিকে কোম্পানিগুলো নাগরিকের অধিকারকে সংকুচিত করছে।

ইসলামি ব্যাংকের বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়েছে কমপক্ষে ৫ বছর এই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতে হবে (*৩)।  সাউথইস্ট ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি যেখানে ৩ বছরের বন্ড সিকিউরিটি বলা হয়েছে(*৪)।এবং সোশাল ইসলামি ব্যাংকে ৫ বছরের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে(*৫)। এটা সত্যি যে, একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকাংশে জটিল এবং সময় সাপেক্ষ। কোম্পানিকে আইন প্রণয়নে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।( ডেলিগেটেড লেজিজলেশন); কিন্তু,  কোম্পানির কোন ধরনের অযৌক্তিক আইন গ্রহণযোগ্য নয়।

একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি সহজ মনে হবে। যদি কোন ব্যক্তি একাধিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি চাকুরীতে আবেদন করে প্রথমে ব্যাংকে নিয়োগ পায়।  পরবর্তীতে একই ব্যক্তি তারচেয়েও ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকুরী পেল। কিন্তু বিদ্যমান ব্যাংকিং আইন সেই ব্যক্তিকে সুযোগ দিচ্ছে না, যা সংবিধান বহির্ভূত, আইন বিবর্জিত এবং মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

আশায় বেচে থাকা নাগরিকদের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।  এধরনের কালো আইন জনগনের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। যার ফলাফল,  ব্যাপকহারে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে। আশা করবো, রাষ্ট্র এক্ষেত্রে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহন করবে।

LEAVE A REPLY