গাইবান্ধায় শিশু হত্যায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

গাইবান্ধায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু তাছিন ওরফে অর্ণব হত্যা মামলার রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। গাইবান্ধার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রত্নেশ্বর ভট্টাচার্য এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার খামার পীরগাছা গ্রামের জাহিদ মিয়া (২০) ও একই গ্রামের পাভেল মিয়া (২৫) এবং সোনাইডাঙ্গা গ্রামের রুবেল মিয়া (২২)। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শিশু অর্ণবের বাবার বাড়ি সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। ২০১০ সালের ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাছিন বন্ধুদের সঙ্গে তার নানা নজরুল ইসলাম ওরফে মধু মাস্টারের খামার পীরগাছা গ্রামের বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। শিশুটিকে তখন কৌশলে ডেকে নিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে আসামিরা শিশুটির পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণ না দেওয়ায় তাঁরা শিশুটিকে হত্যা করে। ওই রাতে আসামি জাহিদের বাড়ি-সংলগ্ন পুকুরের পাটের জাগের নিচ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার বিবরণ থেকে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাহিদ ও পাভেলের পরিবারের সঙ্গে তাছিনের নানা নজরুল ইসলামের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। লাশ উদ্ধারের পরের দিন শিশুটির বাবা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে জাহিদ, পাভেল ও রুবেলসহ ১০ জনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মহিবুল হক এবং আসামিপক্ষে সাইফুল ইসলাম ও নিরঞ্জন কুমার মামলা পরিচালনা করেন।

LEAVE A REPLY