বিনা বিচারে বন্দী থাকা পাঁচজনের জামিন

বিনা বিচারে এক যুগের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী থাকা পাঁচজনকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট বিভাগ। তবে বাকি দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তিন মাসের মধ্যে তাদের মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এইচ মো. নুরুল হুদা জায়গীরদারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন, কুষ্টিয়ার রাসেল শেখ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈতলার বাসিন্দা মোহাম্মদ পারভেজ, মতিঝিলের মাসুদ, নেত্রোকোনার কমলাকান্দার চেংগিনির বাসিন্দা গারো তরুণ লিটন চাম্বু গং ও বাবু।

জামিন নামঞ্জুর হওয়া দুই আসামি হলেন, ঢাকার বাড্ডার আদর্শনগরের সাইদুর রহমান ও কেরানীগঞ্জের ইমানদীপুরের রাজীব হোসেন।

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাদের হাজির করার আদেশ দিয়েছিলেন।

একই সঙ্গে কেন তাদের জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন। পাশাপাশি এসব মামলার নথি তলব করা হয়।

গত ১৫ ডিসেম্বর আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বেহেশতী মারজান। পরে আদালত সাতজনকে হাজির করার আদেশ দেন।

জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভি এই সাত বন্দিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করে। এই সাতজনের মধ্যে দু’জন ১২ বছর, তিনজন ১৩ বছর ও অপর দু’জন ১১ বছর ধরে কারাগারে আছেন।

জানা যায়, কাফরুল থানায় হওয়া এক অস্ত্র মামলায় ২০০৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে কুষ্টিয়ার রাসেল শেখ কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। ১৩ বছর ধরে কারাবন্দি রাসেলের মামলাটি বর্তমানে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক মামলায় ২০০৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকার বাড্ডার আদর্শনগরের সাইদুর রহমান একই কারাগারে আছেন।

খিলগাঁও থানায় হওয়া এক হত্যা মামলায় ঢাকার কেরানীগঞ্জের ইমানদীপুরের রাজীব হোসেন ২০০৩ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে আছেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে হওয়া মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈতলার বাসিন্দা মোহাম্মদ পারভেজ ২০০৪ সালের ২ জুলাই থেকে কারাগারে আছেন।

রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের মাসুদ কারাগারে আছেন ২০০৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে।

নেত্রোকোনার কমলাকান্দার চেংগিনির বাসিন্দা গারো তরুণ লিটন চাম্বু গং উত্তরা থানায় করা এক হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন।

এছাড়া রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা এক মামলায় ২০০৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে বাবু নামের এক আসামি কারাগারে আছেন। কাশিমপুর কারাগার (পার্ট-২)তে এসব আসামি দীর্ঘদিন বন্দি রয়েছেন।

এদেরকে বার বার আদালতে হাজির করা হলেও জামিন হয়নি আবার বিচারও শেষ হয়নি।

LEAVE A REPLY