চালকের আসনে কিশোর

সাগর ও মুন্নার বয়স বড়জোর ১৪ থেকে ১৫ বছর। এই সময়ে স্কুলে যাওয়ার কথা তাদের। কিন্তু তাদের হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং। তারা গাড়ি চালাচ্ছে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে।
সাগর ও মুন্নার মতো আরও অনেক কিশোর সীতাকুণ্ড সদর থেকে চট্টগ্রাম নগরের অলংকার মোড় ও মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পর্যন্ত লেগুনা চালায়। যাত্রীরা বলেন, অল্প বয়সী এসব চালক গাড়ি চালায় বেপরোয়া গতিতে। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
গত বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে ভাটিয়ারি বাজারে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে দুজন কিশোরকে লেগুনার চালকের আসনে দেখা যায়। সাগরের দাবি, তার বয়স ১৬ বছর। তার গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নেই।
দুর্ঘটনার ঝুঁকির কথা স্বীকার করে গাড়ির মালিক কামাল উদ্দিন বলেন, সাগর সম্পর্কে তাঁর ভাগনে। বয়স কিছুটা কম হলেও সে ভালোভাবে গাড়ি চালায়। তিনি আরও বলেন, সীতাকুণ্ডে যে পরিমাণ লেগুনা আছে, সে তুলনায় চালক নেই। বাধ্য হয়ে মালিকেরা কম বয়সী চালকদের গাড়ি দিচ্ছেন।
আরেক চালক মুন্নার দাবি, তার বয়স ২২ বছর। সে ১০ বছর ধরে মহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছে। সে কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। তবে কয়েকজন যাত্রী বলেন, মুন্নার বয়স ১৪-১৫ বছরের বেশি হবে না।
গাড়ির মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, চালকের দায়িত্ব নেওয়ার সময় মুন্না একটি লাইসেন্স দেখিয়েছিল। তিনি লাইসেন্স যাচাই করে দেখবেন। যদি লাইসেন্সটি ভুয়া হয়, তাহলে তাকে আর গাড়ি চালাতে দেবেন না।
ঝুঁকি নিয়ে কেন কিশোর চালকের গাড়িতে উঠেছেন জানতে চাইলে যাত্রী আবদুর রহমান বলেন, গাড়িতে ওঠার সময় চালকের দিকে তাকাননি। সামনে পেয়েছেন, তাই গাড়িতে উঠে পড়েছেন।
অপর যাত্রী কাজী রশিদ বলেন, সীতাকুণ্ডে ১৩-১৪ বছর বয়সী অনেক চালক আছে। যানবাহনের সংকটের কারণে ঝুঁকি আছে জেনেও তাঁরা এসব গাড়িতে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া অবৈধভাবে চলাচল করায় ১৪টি লেগুনা আটক করেন। এসব গাড়ির চালকদের মধ্যে চারজন ছিল কিশোর।
ইউএনও বলেন, কিশোর চালকদের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। তারা মহাসড়কে বিশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চালায়। ফলে তাদের গাড়িতে যাতায়াত করা চরম ঝুঁকির। তিনি বলেন, লাইসেন্সবিহীন চালককে গাড়ি না দিতে মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছালেহ আহম্মদ পাঠান বলেন, লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করছে হাইওয়ে পুলিশ। কিশোর চালকদের হাতে গাড়ি না দিতে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছেন। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভা করেও সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY