যুবদলের সমাবেশে চেয়ার ছোড়াছুড়ি

চট্টগ্রাম নগরে গতকাল শুক্রবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে ডাকা সমাবেশে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেমের মাথায় ইটের আঘাত লাগে।
দলীয় সূত্র জানায়, আসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে গতকাল বিকেলে নগরের নাসিমন ভবন চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদল। সমাবেশ শুরুর পর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে নগর যুবদলের একটি মিছিল সমাবেশে যোগ দেয়। ওই মিছিল থেকে মঞ্চের দিকে হঠাৎ ইট ছুড়ে মারা হয়। এ সময় একটি ইটের টুকরা আবুল হাশেমের মাথায় লাগে। তখন সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এ সময় একজন আরেকজনের দিকে প্লাস্টিকের চেয়ার ছুড়তে থাকেন। ১৫-১৬ মিনিট ধরে সেখানে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ছাত্রদলের সাবেক নেতা শাহেদ আকবরকে কিছু যুবক মারধর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ঘটনার আনুমানিক ২০ মিনিট পর আবুল হাশেম মাথা ব্যান্ডেজ করে সমাবেশে যোগ দেন। তিনি সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে চেয়ারে বসার আহ্বান জানান। আবুল হাশেম এ ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী না করে বলেন, ‘বিএনপি বড় সংগঠন। দলের মধ্যে টুকটাক এসব হয়ে থাকে।’ তিনি দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষ হওয়ার পর আবুল হাশেম বলেন, ‘সমাবেশে বড় কিছু ঘটেনি। সব স্বাভাবিক ছিল।’
রামপুর ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী মোহাম্মদ ইমন বলেন, মঞ্চের দিকে ইট ছুড়ে মারা হলে তিনি আবুল হাশেমকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান। এ সময় তাঁর মাথায়ও ইটের আঘাত লাগে। পরে আবুল হাশেমের সঙ্গে তিনি পাশের একটি ওষুধের দোকানে চিকিৎসা নেন। তাঁদের দুজনের মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সমাবেশ আবার শুরু হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না। আমরা সংগঠিত হতে পারলে এই ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আসলাম চৌধুরীকে ভয় পায়। আজ পর্যন্ত ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ সরকার হাজির করতে পারেনি। আসলে আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে রাখতে পারলে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।’
সমাবেশের প্রধান বক্তা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, আসলাম চৌধুরী আন্দোলন-সংগ্রামে চট্টগ্রামকে অচল করে দিয়েছিলেন। এ কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি কাজী মো. সালাহ উদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ফাওয়াজ হোসেন, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুন-উর-রশিদ, চাকসুর সাবেক ভিপি নাজিম উদ্দিন।

LEAVE A REPLY