মোকসেদুল ইসলামের একগুচ্ছ কবিতা

পাপের শহরে মাতাল হাওয়া
………………………………………

পাপ শহরের ব্যাখ্যা দিতে নেই।
সবুজ চশমায় যে চাঁদ দেখি তার সবটুকু আলোই মেকি
মুখের কথায় বিশ্বাস নেই সুগন্ধি রুমাল টেনে নিয়ে বুকে
গর্ভে রোপন করো সংখ্যালঘু বীজ।
লিপিতে বিরহ নেমে এলে কবিও গেয়ে ওঠে শূন্যভিটের গান
স্বপ্নভূক চাষিরা ভুলে গেলে মাটির স্বাদ
নীরব প্রতিবাদে ঝরে পড়ে কামাতুর বীজ।
বাতাস নীরবে বয়ে গেলে চৌচির এবুক পেতে দেবো
বিকেলের ছুরিটা শান দিয়ে রেখেছি নির্দোষ প্রতীক্ষা শেষে
কেটে ফেলবো মাতাল হাওয়ার বুক।

বাতিঘর
………………….

আমি তো সব ছেড়ে দিয়ে এই নির্জনে বসে আছি
সন্ন্যাসী কিংবা বুদ্ধ হওয়ার ইচ্ছেও আমার নেই
শুধু একলা বাতাসে মন ভরে শ্বাস নেবো বলে
ফেলে এসেছি সব নাগরিক কোলাহল।

এ শহর আমার নয়, বোধিবৃক্ষের নিচে বসে থাকা ঈশ্বরের
যে বুনোঘোড়া এসেছিল সেও দিতে পারেনি প্রজাপতি সুখ
কিছু ঈশ্বর প্রজাতির মানুষ শুধু চেয়ে দেখে মৎস্যকন্যার রূপ
হে অভয় অরণ্য, সভ্যতার পোশাক খুলে তুমিই দীর্ঘজীবি হও
আর আমি লিখতে থাকি বাতিঘরের ইতিহাস।

মানুষ প্রদর্শনী
……………………..

চলছে মানুষ প্রদর্শনী
পাশাপাশি বসে যারা গোপন অভিসারে
তাদের জন্মচেতনা ঢেকে গেছে বিয়োগান্ত মেঘের অভিশাপে
নদীর থলিতে শ্যাওলা জমে গেলে মগ্ন উচ্ছ্বাসে
ভাঙা দর্পণে কেউ কেউ দেখে স্বীয় মুখ।

এখন নদী জন্মের কথা বলি
নোঙরের দড়ি খোঁজে যে মাঝি তাঁর বুকে এখন আগুন জ্বলে
অথচ কে না জানে নদী ও নারী দুটিই সৃষ্টির প্রেরনা
বাসন্তীরাতের ঘুম কেড়ে নিলে যদি সভ্য হয় পৃথিবী
তবে আমিও দাঁড়িয়ে যাবো ধূলির নগরে
এক আজলা নদীর জল খেয়ে বন্ধ করবো মানুষ প্রদর্শনী।

 

LEAVE A REPLY