ফেদেরার-নাদাল ফাইনালে স্মৃতিকাতর টেন্ডুলকার

মেলবোর্নের টেনিস কোর্টে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়তে তুমুল লড়াইয়ে ব্যস্ত সুইজারল্যান্ডের রজার ফেদেরার ও স্পেনের রাফায়েল নাদাল। আর সেই লড়াইয়ে চোখ রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের সাবেক লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার।

ব্যস্ততার কারনে ফেদেরার নাদালের জম্পেশ লড়াইটা পুরোপুরি না দেখলেও কিছুটা সময় দেখতে পেরেছেন টেন্ডুলকার। এমনকি ম্যাচ শেষে নিজের ভেরিফাইড টুইটারে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ফেদেরার-নাদাল এই ফাইনালটি ক্রিকেট জীবনের অনেক পুরনো স্মৃতিই মনে করিয়ে দিয়েছে টেন্ডুলকারকে।

ফেদেরার, নাদালের মত ফর্ম ক্রিকেট ক্যারিয়ারে খারাপ গেছে তারও। কিছুদিন পর আবার সাফল্যও ধরা দিয়েছে টেন্ডুলকারের সামনে। ঠিক তেমনি দীর্ঘদিন পর ফেদেরার ও নাদালের সামনেও সাফল্য ধরা দিয়েছে। ফেদেরার অস্ট্রেলিয়ার ওপেনের শিরোপা জিততে পারলেও, নাদাল পারেননি। তবে দু’জনেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, এখনো তারা ফুরিয়ে যাননি। যেমনটা ফর্মহীনতায় থাকলে টেন্ডুলকারকে শুনতে হয়েছিলো- ফর্ম নেই, অবসর কবে নিবেন? ব্যাট হাতে বড় বড় ইনিংস খেলে টেন্ডুলকারও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন- ফুরিয়ে যাননি তিনিও।

২০০৫-০৬ সালে এবং ২০০৭ বিশ্বকাপের পর, অবসর কবে নিচ্ছেন- এমন প্রশ্ন অনেক বার শুনতে হয়েছে টেন্ডুলকারকে। ঐ স্মৃতি মনে করে টেন্ডুলকার বলেন, ‘অবসর নিয়ে প্রশ্ন অনেকবার শুনেছি। কিন্তু ২০০৫-০৬ সালে এবং ২০০৭ বিশ্বকাপের পর অবসরের প্রশ্নগুলো অনেক বেশি আঘাত করেছিলো।

আমার মত ফেদেরার-নাদালকে সাম্প্রতিক সময়ে বহুবার এমন প্রশ্ন শুনতে হয়েছে। দু’জনের ফাইনাল ম্যাচটি দেখে আরও উপলব্ধি করতে পেরেছি, কেন ম্যাচ শেষে তারা বলেছে- তারা কখনো ভাবেনি আবারো কোন এক ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হতে পারবে। আসলে নিজের কাজ বা খেলাটাকে উপভোগ করলেই এটা কেবল সম্ভব। যেটা করছে ফেদেরার ও নাদাল।’

নাদালের চেয়ে ফেদেরারের অবসর নিয়ে জল ঘোলা হয়েছে বহুবার। কিন্তু তারপরও ভেঙ্গে পড়েননি ফেদেরার। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রেখেছেন তিনি। তাইতো ইনজুরির কারনে দীর্ঘদিন পর কোর্টে ফিরে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় ফেদেরারের। এমন পরিস্থিতির সাথে মিল আছে টেন্ডুলকারের স্মৃতির, এমন পরিস্থিতি আমার জীবনেও এসেছিলো।

ইনজুরির কারনে মাঠের বাইরে, আবার ফর্মহীনতায় কিছুদিন খারাপ সময়। তারপরও হাল ছাড়িনি। আবারো সাফল্যকে সঙ্গী করতে পেরেছিলাম। যেমনটা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ফেদেরারকে করতে দেখলাম। কি দুর্দান্তভাবেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে নিলো সে। তার বয়স হয়েছে, তাই সাফল্য পাচ্ছেন না তিনি। কিন্তু ফেদেরার তো বুঝিয়ে দিলো, এই বয়সেও বড় আসরে শিরোপা জয় করা সম্ভব।

টেনিস জগতে ফেদেরারের ভক্ত টেন্ডুলকার। নাদালের খেলাও তার ভালো লাগে। তাই বিশ্ব টেনিসে এই দুই শীর্ষ তারকাকে এখনো সেরা খেলোয়াড় বলতে ভুল করেননি টেন্ডুলকার, ফেদেরার-নাদালের ফাইনাল লড়াই বিশ্বের অনেকেই উপভোগ করেছে। অতীতেও তারা এমন উপভোগ্য টেনিস আমাদের উপহার দিয়েছে। তবে এবার ফাইনাল ম্যাচটিও মনে রাখার মত ছিলো। এদের যুদ্ধ দেখতেই সবাই অস্থির থাকে। যেমনটাই আমিও ছিলাম। টেনিসের সেরা দুই সেরা খেলোয়াড় তো তারাই।

ফাইনালে ম্যাচের দিন বা পরে নয়, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল নিয়ে আগ থেকেই তেতে ছিলেন টেন্ডুলকারও নিজেও, দু’জনের এই লড়াইটা আমাকে বেশ চাঙ্গা রেখেছিলো। ম্যাচের আগের দিন আমি টুইট করেছিলাম, এ ম্যাচে আমি কাকে সমর্থন করবো? আমি ফেদেরারের ভক্ত, তা সবাই জানার পরও আমার প্রশ্নের প্রচুর উত্তর পাই। তখন বুঝলাম এই ফাইনাল দেখতে তেতে আছে অগণিত টেনিস ভক্তরাও।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ফেদেরার ৬-৪, ৩-৬, ৬-১, ৩-৬ ও ৬-৩ গেমে হারান নাদালকে। ফাইনালটি শেষ হতে সময় লেগেছিলো ৩ ঘন্টা ৩৭ মিনিট। পঞ্চমবারের মত অস্ট্রেলিয়ান ওপেন হলেও, ১৮তম বারের মত গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের নজির গড়েন ৩৫ বছর বয়সী ফেদেরার।

LEAVE A REPLY