সরকার ও পরীক্ষা ব্যবস্থাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মিথ্যা প্রশ্নপত্র -শিক্ষামন্ত্রী

উদ্দেশ্যমূলকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে ভুল-মিথ্যা প্রশ্নপত্র দেওয়া হচ্ছে । আসল প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে না। সরকার ও পরীক্ষা ব্যবস্থাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এসব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি ।

এ বছর দেশের ১০টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা একযোগে শুরু হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ মার্চ পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ১১ মার্চ।

সকাল ১০টা থেকে এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভোকেশনালে বাংলা-২ (১৯২১) আর দাখিল ভোকেশনালে নতুন সিলেবাসে বাংলা-২ (১৭২১) সৃজনশীল ও পুরাতন সিলেবাসে বাংলা-২ (১৭২১) সৃজনশীল বিষয়ের পরীক্ষা অংশ নিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্র পরিদর্শন যান শিক্ষামন্ত্রী। এখানে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজ-খবর নেন। প্রশ্নপত্র যেন ফাঁস না হয় সেজন্য মন্ত্রীকে ব্যবস্থা নিতে বলেন অভিভাবকরা। শিক্ষামন্ত্রী স্কুলটির একটি কক্ষও পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসেন।

কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি অভিভাবকদের বলেছি, প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীর ফাঁদে পড়বেন না, তাদের পেছনে ছুটবেন না। কারণ তারা সবাই ভুল- ভুয়া প্রশ্ন দেয়।

সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে। তিন বছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। আমরা মনিটরিং কমিটি করেছি। আইন-শৃঙ্খলা কমিটি কাজ করছে। বিজি প্রেসের মতো বড় জায়গায়ও প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ করতে পেরেছি। পুলিশ ও গোয়েন্দারা তৎপর রয়েছে। কেউ নজরদারিরর বাইরে থাকতে পারবেন না। অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি, সব বলবো না। তবে কিছু রিপোর্ট আমাদের কাছে এসেছে যে, কেউ ফেসবুকে দিচ্ছে, কী উদ্দেশ্যে দিচ্ছে। আগে বিক্রি করে অর্থ পাওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল। এখন এটা নেই। পরীক্ষা ও সরকারকে নিয়ে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হচ্ছে।

প্রশ্নপত্র মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে আমরা পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে শিক্ষকরা যাতে সঠিকভাবে সমতার ভিত্তিতে নম্বর দিতে পারেন। অপ্রয়োজনে কাউকে বেশি নম্বর বা কম নম্বর দেবেন না। যা সঠিক তাই করবেন। কেউ মেনে না চললে তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সব পরীক্ষার্থীর হাতে খাতা দেওয়া হয়েছে। এতে তারা প্রায় ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে। একমাত্র কেন্দ্রসচিব ছাড়া আর কোনও ব্যক্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্রসচিবের অনুমতি ছাড়া কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না।

এ বছর ১০টি শিক্ষা বোর্ডের ৩ হাজার ২৩৬টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৩৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০১ জন ছাত্র ও ৮ লাখ ৭৬ হাজার ১১২ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে।

গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০ জন পরীক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ৯৩টি কেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে। এরমধ্যে বিদেশে ৪৪৬ জন পরীক্ষার্থীর জন্য ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও এবছর সরস্বতী পূজার কারণে একদিন পর থেকে শুরু হচ্ছে এ পরীক্ষা।

এ বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থী হচ্ছে ১৬ লাখ ৭ হাজার ১২৪ জন । এছাড়া অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৮ জন ও বিশেষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (১, ২, ৩, ও ৪ বিষয়ে) ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮ জন।
এসএসসিতে ৭ লাখ ২ হাজার ২৯৯ জন ছাত্র ও ৭ লাখ ২৩ হাজার ৬০১জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেবে। ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী ২১ হাজার ৩০২ জন বেশি।

দাখিলে ছাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৮৫ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৬ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে ছাত্র ৭৭ হাজার ৬১৭জন ও ছাত্রী ২৬ হাজার ৫৯৫ জন । এ বছর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষা নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বাইরে বিদেশে জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপোলি, দোহা, আবুধাবি, দুবাই, বাহরাইন এবং ওমানের সাহামে ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রালপালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY