জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক সংকট, বিপাকে রোগীরা

নেত্রকোনায় সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধকের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে কুকুর, শিয়াল, বিড়ালসহ বিভিন্ন পশুর কামড়ে আহত ব্যক্তিরা বিপাকে পড়েছেন। তাঁরা বাইরে থেকে চড়া দামে প্রতিষেধক কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদা অনুযায়ী হাসপাতালে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক সব সময়ই কম থাকে। গত জানুয়ারিতে পাঠানো প্রতিষেধক এক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে এখনো আসেইনি।
গত বুধবার সকালে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুর, বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের টিকা দেওয়ার কক্ষের সামনে রোগীর ভিড়। কিন্তু হাসপাতালে টিকা নেই।
অপেক্ষমাণ রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিড় করা রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই টিকার দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্ব নেওয়ার জন্য এসেছেন। নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে টিকা দিতে না পারলে আগের পর্বের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি গ্রামের হারেছ মিয়া বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয় না। তাই তিনি জেলা হাসপাতালে এসেছেন। তাঁর চার পর্বের টিকার প্রথম পর্ব বিনা মূল্যে পেয়েছেন। কিন্তু বুধবার দ্বিতীয় পর্বের টিকার জন্য এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টিকা নেই বলে জানায়।
সদর উপজেলার সিংহের বাংলা গ্রামের মো. রহুল আমীন বলেন, ১০০ মিলিলিটারের একটি টিকা সর্বোচ্চ চারজন রোগী দিতে পারেন। তাই তিনি আরও কয়েকজনের জন্য হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করছেন। তিনি জানান, ৬০০ টাকার টিকা বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট মূলের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়।
কুকুরের কামড়ে আহত মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের খোকন মিয়া বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গরিব। প্রতিষেধক কেনার সামর্থ্য নেই। জীবন বাঁচাতে এখন ঋণ করে প্রতিষেধক কিনতে হবে।’ তিনি জানান, বুধবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মদন পৌর এলাকায় ও চানগাঁও ইউনিয়নে পাগলা কুকুর অন্তত ২৫ জনকে কামড়িয়েছে। আহত ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রতিষেধক নেই বলে জানাচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে জেলা হাসপাতালে এলেও সেখানে প্রতিষেধক পাওয়া যাচ্ছে না।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) গতকাল বলেন, জেলায় প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০টি জলাতঙ্ক প্রতিষেধক প্রয়োজন। সেখানে সরবরাহ করা হয় ৩০ থেকে ৫০টি। তা দু-তিন দিনেই শেষ হয়। তিনি জলাতঙ্ক প্রতিষেধক সরবরাহের জন্য আবেদন করেছেন।

LEAVE A REPLY