পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন নয় অনড় ভারত

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) শীর্ষ সম্মেলন পাকিস্তানে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আপত্তি প্রত্যাহার করেনি ভারত। নয়াদিল্লিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গত নভেম্বরে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার কারণগুলো তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ভারতের সেই অবস্থান এখনো আছে।

ভারত, বাংলাদেশসহ সার্কের বেশির ভাগ সদস্য ইসলামাবাদে শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে রাজি না হওয়ায় পাকিস্তান ওই সম্মেলন স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এরপর গত বুধ ও গতকাল বৃহস্পতিবার নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে সার্কের প্রোগ্রামিং কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, কাঠমাণ্ডুর ওই বৈঠকে ভারতের অংশগ্রহণ কি পাকিস্তানে শীর্ষপর্যায়ের বৈঠকের সম্মতির ইঙ্গিত?

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেন, ‘আপনি কিভাবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছান? আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা সার্কের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমাদের আপত্তি ছিল যে

এমন এক সময়ে ওই সম্মেলন হতে যাচ্ছিল যখন একটি বিশেষ দেশ আঞ্চলিক সংযোগের উদ্যোগের বিরোধী, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ দিচ্ছে এবং অন্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে। ’

বিকাশ স্বরূপ বলেন, ‘কেবল ভারত নয়, সার্কের অন্য সব সদস্য তখন একসঙ্গে অবস্থান নিয়েছে যে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি নেই। আমাদের অবস্থান সেটিই আছে। ’

উল্লেখ্য, ভারতে গত বছর জঙ্গি হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে নয়াদিল্লি পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে অপারগতা জানায়। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশেরও কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল। এক এক করে বাংলাদেশ, ভুটান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাও পাকিস্তানে সম্মেলনে অংশ নিতে অপারগতা জানায়। রীতি অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ অংশ না নিলে শীর্ষ সম্মেলন হয় না। সে কারণে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে প্রস্তুতি সত্ত্বেও পাকিস্তানকে তা স্থগিত করতে হয়। তবে গত মাসের শেষ সপ্তাহে সার্কের বিদায়ী মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য পাকিস্তানে গেলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ যত দ্রুত সম্ভব সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে সার্কের পরবর্তী মহাসচিব পদে পাকিস্তানি কূটনীতিক আমজাদ হোসেন সিয়ালের নিয়োগ নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১ মার্চ থেকে নতুন মহাসচিব হিসেবে আমজাদ হোসেন সিয়ালের দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়নি।

 

LEAVE A REPLY