সার্চ কমিটি নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রথমত আবশ্যিকভাবে তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে। এ ছাড়া দক্ষতা, সততা, দল নিরপেক্ষ  এবং বয়স অবশ্যই ৭০ বছরে নিচে হতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর দেশে এই প্রথমবারের মতো কাউকে নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে আনার সুপারিশ করা হচ্ছে যিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া কোনো আমলা। কমিশনে আইনজ্ঞ নারী কমিশনার ছাড়াও বিষয় বিশেষজ্ঞ বিশিষ্টজনদের প্রতিনিধিত্বও রাখার সুপারিশ করতে পারে সার্চ কমিটি।

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত সার্চ কমিটি এখন পর্যন্ত ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। তারা চাইছেন, ইসি পুনর্গঠনে যাতে বড় ধরনের কোনো অভিযোগের আঙুল কেউ তুলতে না পারেন। সে জন্য যেসব দল তাদের কাছে নাম দিয়েছে তা থেকে উল্লিখিত যোগ্যতার মধ্যে পড়ে তাদের বাছাই করে নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তই নিচ্ছেন। কারো বিরুদ্ধে একজনেরও আপত্তি থাকলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

সার্চ কমিটিতে আছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরীন আখতার।

উল্লেখ করা যেতে পারে, এই সার্চ কমিটির বিষয়ে এখন পর্যন্ত বড়সড় কোনো অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেননি কেউ। যেটুকু কথাবার্তা বলা হচ্ছে তাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসাবেই দেখছেন পর্যবেক্ষক মহল। বিশিষ্ট নাগরিকরা ছাড়াও রাজনৈতিক  দলগুলোর আস্থা সার্চ কমিটির ওপর অনেকটাই বেশি। তাদের বিশ্বাস নৈতিকতার বিবেচনায় অনেকটাই উন্নত এই সার্চ কমিটি যাদের বাছাই করবেন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতিফলন দৃশ্যমান করতে পারবে।

সূত্র অবশ্য বলছে, দলীয়ভাবে নেওয়া নামের বাইরেও সার্চ কমিটি এক থেকে দুই জনের নাম সুপারিশ করতে পারেন। এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী সাবেক সচিব কেএম নুরুল হুদা, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও কলামিস্ট আলী ইমাম মজুমদার, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ, বর্তমান কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারকের নামই শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে থেকে যেকোনো দুইজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদে সুপারিশকৃত হতে পারেন। তবে শেষপর্যন্ত এ দুইজন কারা হবেন সেটি সার্চ কমিটির সর্বশেষ সভা যা আগামীকাল হওয়ার কথা তারপরই জানা যাবে। নির্বাচন কমিশনার পদে বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের সাবেক একজন সচিব, শিরীন কবিতা আখতার এবং কবিতা খানমের মধ্যে একজনের নাম সুপারিশ করা হতে পারে। পুলিশ থেকে কাউকে কমিশনার পদে রাখার বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি। তবে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা রাখা হবে। থাকছেন নির্বাচন সংক্রান্ত একজন বিশেষজ্ঞ, সাবেক অধ্যাপক।

জানা গেছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে গঠিত সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটি। এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করবে কমিটি। রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া ১২১টি নাম থেকে যে ২০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছিল, তাতে পরিবর্তন এসেছে। কমিটি সদস্যরা কিছু যোগ্য ব্যক্তির নাম সংযোজন করেছেন। রাজনৈতিক দল ও নিজের সংযুক্ত নামগুলোর ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধ্যান শুরু করেছে সার্চ কমিটি। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্চ কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশকৃত নাম প্রকাশ করা হবে কী না সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামীকালের বৈঠকে এটি চূড়ান্ত হতে পারে।

আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটি তাদের প্রথম বৈঠক থেকে ৩১টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঁচজন করে ব?্যক্তির নাম চেয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ২৫টি রাজনৈতিক দল ১২১ জনের নাম প্রস্তাব করেছিল।

উল্লেখ্য, নতুন ইসি গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ৩১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের পর সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে গত ২৫ জানুয়ারি ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন। ১০ দিনের মধ্যে অর্থাত্ ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সার্চ কমিটিকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY