৮৫ বছর বয়সী দুঃখী মন্ডলের জীবনে দুঃখই যেন গেল না। জীবন সয়াহ্নে এসে প্রাণ প্রদীপ তার নিভু নিভু। অথচ এই মুক্তিযোদ্ধার নাম সরকারী তালিকায় ওঠেনি। ১০ টাকা ভাড়ার জন্য গ্রাম থেকে ১৫ মাইল হেটে আসেন হরিণাকুন্ডু শহরে। এই মুক্তিযোদ্ধা বীর সেনানীর বাড়ি জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের উত্তর পাড়ার শ্রমজীবী মৃত কিতাব্দী মন্ডলের ছেলে।

অভাবের সংসারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে বাবা মা নাম রেখেছিলেন দুঃখী। কিন্তু বাবা মায়ের দেওয়া নামটি যেন তার জীবনের সাথে আষ্টেপিষ্টে ভাবে বিধেঁ গেছে। ছোট বেলায় পরের বাড়ি রাখাল হিসেবে কাজ করতেন। কিশোর ও যৌবনে পেটভাতা খেয়ে শ্রম দিয়ে জীবন ধারন করতেন তিনি। ৪০ বছর বয়সে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েন। ঘর ছেড়ে চলে যান ভারতের রানাঘাটে ইউথ ক্যাম্পে। সেখানে দীর্ঘ আড়াই মাস সহযোদ্ধাদের সাথে অবস্থান করে টায়ফাইড জ্বরে আক্রান্ত হলে ক্যাম্প কমান্ডারের নির্দেশে দেশে ফিরে আসেন।

সুস্থ্য হয়ে তিনি যুদ্ধকালিন গ্রƒপ কমান্ডার নূর উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেন। আলমডাঙ্গা উপজেলার আড়পাড়া এলাকায় সম্মূখ সমর যুদ্ধ করেন অসীম সাহসিকতার সাথে। গ্রুপ কমান্ডার নূর উদ্দীন আহমেদ এক সাক্ষাতকারে জানান, অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মোঃ জান-ই আলম মন্টু, গেজেট নং-৩৪৭, মোঃ রবিউল ইসলাম, গেজেট নং-৪৪৮, মোহাম্মদ আলী, গেজেট নং-২৯০ দুঃখী মন্ডলের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাদের নাম তালিকায় উঠলেও বাদ গেছে দুঃিখ মন্ডলের নাম।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা কমান্ডার মোঃ মহি উদ্দীন ও স্থানীয় ভায়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলীরও অনুরূপ প্রত্যয়ন প্রদানের ডকুমেন্টে রয়েছে। মাত্র ১০ শতক জমিকে সম্বল করে খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে দিনপাত করেন এই হতদরিদ্র মানুষটি। পুরাতন টিনের ছাপড়া আর পাটখড়ির বেড়া দিয়ে ঘেরা একটি ভাঙাচোরা ঘরে কোন রকমে তার বসবাস।

২০১৩ সালে অবশিষ্ট ১০ কাঠা জমি ৪০ হাজার টাকায় বন্দক রেখে নিজের চিকিৎসা করান। আসন্ন যাচাই বাছাই কমিটিতে দুঃখি মন্ডলের নাম অর্ন্তভুক্ত করে এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সুবিচার করার অনুরোধ করেছেন মানবাধিকার কর্মী এড খোদা বক্স। মুক্তিযোদ্ধা দুঃখি মন্ডলের সাথে যোগাযোগ মাহবুব মুরশেদ শাহীন, হরিণাকুন্ডু, ঝিনাইদহ। ফোন নং ০১৭১৫৪৬৮৫৭১।

LEAVE A REPLY