শাহাদত হোসেন(শুভ):
উলিপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের বিনামূল্যে সেবা গ্রহনের একমাত্র ঠিকানা।বর্তামানে মুমূর্ষ অবস্থায় উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । হাসপাতালটিতে বর্তমানে বেশ কয়েকটি বিভাগে জনবল সংকট রয়েছে । যেখানে ৫০ শয্যার হাসপাতালে ১৮ জন ডাক্তার থাকার কথা সেখানে আছে মাত্র ০৪ জন। বাহির থেকে আনা হচ্ছে ০২ জন ডাক্তার। কনসালটেন্ট বিভাগের ১০ জন ডাক্তারের মধ্যে আছে ০২ জন। সাধারণ চিকিৎসা দেওয়া জন্য ০৬ জন ডাক্তারের মধ্যে আছে ০২ জন। টেকনিশিয়ান না থাকার কারণে ১০ বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে মেশিন ।এক্স-রে সুবিধা না পাওয়ায় অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাহিরের ডায়গনসিস সেন্টার থেকে এক্স-রে করতে হচ্ছে এ হাসপাতালের রোগীদের ।কোমরে আঘাত পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন কিশোবপুর গ্রামের দিনমজুর রফিকুল মিয়া। তিনি বলেন, “ডাক্তার কইছেন এক্স-রে করি দেখাইবার । এডেকোনা তো মেশিন (এক্স-রে যন্ত্র) নাই। এলা বাইর‌্যা ক্লিনিক থাকি (বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্র) টেহা (টাকা) দিয়া করা নাগবে”
ডাক্তারের সংকটে ৪ বছর ধরে বন্ধ আছে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অপারেশন বিভাগ । জনবল সংকট,এক্স-রে মেসিন নষ্ট, অপারেশন বিভাগ বন্ধ ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যায় হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রমে বেশ বেগতিক অবস্থা। এতে করে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা পড়ছে মারাত্বক দুর্ভোগে। বঞ্চিত হচ্ছেন কাঙ্খিত সেবা থেকে ।গাইনি চিকিৎসক ও অবেদনবিদ না থাকায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসব করানো সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে তাঁদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হামিদ সরকার জানান, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদের জনবল সংকটের বিষয়টি জানিয়ে প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। হাসপাতালে বেশির ভাগ দরিদ্র লোকজন চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে প্রসূতিদের সংখ্যা বেশি ।টেকনিশিয়ান না থাকার কারণে এক্স-রে মেশিনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে । এই মেশিনটি এখন কোনো ভাবেই ঠিক করার উপযোগী নয়। এখন নতুন মেশিন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই

LEAVE A REPLY