জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে গত এক বছরে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭০৩ জন রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
জেলা হাসপাতাল সূত্র বাসস’কে জানায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে সেবা প্রদানকৃত রোগীর মধ্যে রয়েছে- বহিঃবিভাগে ২ লাখ ১৭ হাজার ১৪৭ জন, জরুরী বিভাগে ৩০ হাজার ২৫৬ জন ও অন্তঃবিভাগে ৭৬ হাজার ৪৯৫ জন। এছাড়াও একই সময়ে জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার ৫৪৮ জন মা’কে মাতৃত্ব সেবা, ২ হাজার মা’কে স্বাভাবিক ডেলিভারী ও ৭৯২ জন মা’কে সিজারিয়ান সেবা এবং ২ হাজার ১৬৯ জন রোগীকে জলাতংক টিকা প্রদান করেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ১শ’ শয্যা নিয়ে জেলা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য জনবল বৃদ্ধি করাসহ ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই জেলা হাসপাতালটি ১৫০-শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে সিনিয়র কনসালটেন্ট রয়েছেন ৫ জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট ৪ জন, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার একজন, ইমারজেন্সী মেডিক্যাল অফিসার ২ জন ও মেডিক্যাল অফিসার ১৬ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও জুনিয়র কনসালটেন্ট নাক, কান, গলা, চক্ষু, এানেসথেশিয়া ও শিশুসহ মেডিক্যাল অফিসারের ১৪পদটি শূন্য রয়েছে। এ পদগুলো পূরণ হলে আরো অধিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা উন্নত হওয়ার কারণে জেলার বাইরে থেকেও এখানে রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। বিশেষ করে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলার রোগী, নওগাঁ জেলার ধামইরহাট ও বদলগাছী উপজেলা, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ও বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশের রোগীরা এখানে আসেন। ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ৫নং ওয়ার্ডটিকে কার্ডিওলজি বিভাগ হিসাবে চালু করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এই কার্ডিওলজি বিভাগের উদ্বোধন করেন। গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এখানে ৩ হাজার ৫শ’ হৃদরোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন হৃদরোগী সেকেন্দার আলী (৭০) বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আমার জ্ঞান ছিল না। জরুরী ভিত্তিতে এখানে ভর্তি করার পর চিকিৎসা সেবায় আমি সুস্থ হয়েছি।
অপর বেডে থাকা হৃদরোগী মনোয়ারা চৌধুরী (৭৫) বলেন, জেলা হাসপাতালে চালু হওয়া কার্ডিওলজি বিভাগ অনেক হৃদরোগীর জীবনে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
আগে এ অঞ্চলের হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজশাহী অথবা বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে যেতে হতো বলে জানান কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা: এ এস এম গোলাম রব্বানী। জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগ চালুর পর থেকে দিন দিন হৃদরোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন হৃদরোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কার্ডিওলজি বিভাগে বেড সংখ্যা ১৪টি হলেও অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকে সব সময়।
জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মো: খুরশীদ আলম বাসস’কে জানান, চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি এখন প্রচুর পরিমাণে ওষুধপত্রও প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতালে সরবরাহকৃত ওষুধের মধ্যে সরকার প্রদান করে ৭০ ভাগ এবং বাকী ৩০ ভাগ স্থানীয়ভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির তদারকি বৃদ্ধি ও চিকিৎসকদের আন্তরিকতার কারণে সরকারের সীমিত সম্পদ দিয়ে হলেও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কোন প্রকার ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY