সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরুকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এই পত্রটি বুধবার রাতে মিরুর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী এবং সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এমন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার অভিযোগে মিরুকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। মিরুকে কেন চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে না তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে (বাড়ি-৫১/এ, সড়ক ৩/এ, ধানমণ্ডি আ/এ, ঢাকা) বরাবর পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বেলাল হোসেন চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভা আহ্বান করা হয়েছে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই হাসিবুল হক পিন্টু শাহজাদপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারপিট করেন। পরে মেয়রের বাসা থেকে পুলিশ পিন্টুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিজয় মাহমুদকে মারপিটের ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন বিকেলে এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মেয়রের বাসার সামনে পৌঁছালে কয়েকজন লোক মেয়রের বাসা লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে।

একপর্যায়ে মেয়র তাঁর ব্যক্তিগত শটগান থেকে গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলি ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুলসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়।

গুরুতর আহত সাংবাদিক শিমুলকে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বগুড়া থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুপুর ১টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় এলাকায় সাংবাদিক শিমুল মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম শুক্রবার শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে মেয়র হালিমুল হক, তার দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার শ্যামলী এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহায়তায় সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা মেয়র হালিমুল হক মিরুকে গ্রেফতার করেন। গত সোমবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি মিরুর রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রেখেছে।

LEAVE A REPLY