প্রযুক্তি হেলে যাওয়া বাড়িকে সোজা করল

প্রযুক্তি হেলে যাওয়া বাড়িকে সোজা করল

255

নিজে হেলে গিয়ে রিষড়ার পুর-রাজনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল বাড়িটা! বাড়ি ঘিরে রাজনীতির ডামাডোলে ইস্তফা দিতে হয়েছিল রিষড়া পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যানকে। তবে যাকে নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল, সেই বাড়ি অবশ্য প্রযুক্তির হাত ধরে সোজা হয়েছে।

পুরভবনের অদূরে এন কে ব্যানার্জি স্ট্রিটে যে আবাসনকে ঘিরে বিতর্ক বাধে তার পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমতি ছিল। কিন্তু নিয়ম ভেঙে আবাসনের আরও দু’টি তলা বাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আবাসনটি তৈরি করেন তৎকালীন তৃণমূল পুরপ্রধান শঙ্করপ্রসাদ সাউয়ের ভাই বিষ্ণু সাউ। পুরসভা সূত্রে খবর, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই আবাসন নির্মাণ শুরু হয়েছিল। নির্মাণ প্রায় শেষ হওয়ার পর ২০১৬ সালের জুলাই মাসে লিফট বসানোর সময় ধরা পড়ে, আবাসনটি বেশ কিছুটা হেলে রয়েছে। এর পরেই ওই আবাসনের বেআইনি নির্মাণ নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়। পুরএলাকা জুড়ে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুর চেয়ারম্যান শঙ্করপ্রসাদ সাউয়ের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত  দলের নির্দেশে চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে হয় তাঁকে।

পুরসভার তরফে ওই ‘বেআইনি’ আবাসনের ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়। চাপে পড়ে প্রোমোটার আবাসনের উপরের দু’টি তল ভেঙে ফেলেন। যদিও বাড়িটি হেলে পড়ায় বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হয়। প্রসঙ্গত, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে হরিয়ানার যমুনানগরের একটি সংস্থা চুঁচুড়ায় একটি বসে যাওয়া একতলা বাড়িকে প্রযুক্তির

সাহায্যে রাস্তা থেকে তিন ফুট উঁচু করে দেয়। বিষয়টি জানা থাকায় গত ডিসেম্বর মাসে ‘এসসিএসবি হাউজ লিফটিং’ নামে ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন আবাসনটির প্রোমোটার। সংস্থা সূত্রে জানানো হয়, আবাসনটি সামনের দিকে (পূর্বদিকে) ১৮ ইঞ্চি এবং ডানদিকে (দক্ষিণ) ৮-৯ ইঞ্চি হেলে রয়েছে। ওই রাস্তায় জলের পাইপলাইন যাওয়ার ফ‌লেই মাটি আলগা হয়ে ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংস্থার তরফে আবাসনের মালমশলা, মাটি পরীক্ষা এবং ফাউন্ডেশন প্ল্যানের রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়। এর পর বাড়িটি সোজা করার প্রক্রিয়া শুরু করে সংস্থাটি।

সংস্থার কর্তারা জানান, প্রথমে বাড়ির নীচের দিকে মাটি খুঁড়ে কিছুটা অংশ কংক্রিটের ঢালাই করা হয়। তার পরে স্ক্রু-জ্যাক বা মেকানিক্যাল জ্যাকের সাহায্যে হেলে পড়া দিকটি তোলা হয়। সংস্থার কর্ণধার শিবচরণ সাইনির দাবি, এক একটি জ্যাক ৯০ টন ভার বহনে সক্ষম। প্রায় সাতশোটি জ্যাক লাগানো হয় বাড়ির নীচের অংশে। কাজের ভারপ্রাপ্ত বাস্তুকার প্রিয়াঙ্কা পালিত বলেন, আবাসনের ১৮টি পিলারের মধ্যে ১০টি কেটে কাজ করতে হয়েছে। শিবচরণবাবু বলেন, আবাসনটি বিপজ্জনক ভাবে হেলে গিয়েছিল। তিন সপ্তাহ ধরে কাজ চলে। মঙ্গলবার কাজ শেষ হয়েছে। আবাসনটি এখন সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।

প্রোমোটার বিষ্ণু সাউয়ের দাবি, আবাসনটি এখন ১০০ শতাংশ সোজা। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। প্রয়োজন হলে পুরসভা খতিয়ে দেখতে পারে।

পুরপ্রধান বিজয়সাগর মিশ্রের বক্তব্য, আমরা বিশেষজ্ঞ নই! স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের শংসাপত্র দেখেই পুরসভা বিষয়টি বিবেচনা করবে।
সূত্র: আনন্দবাজার

LEAVE A REPLY