ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ফাজিলপুর গ্রামে খালাতো ভাইয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হওয়ায় রিপা খাতুন (১৩) নামে এক কিশোরী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিপা মারা যায়। আসাননগর-কুল্লাগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী রিপা ফাজিলপুর গ্রামের রিপন হোসেনের মেয়ে।

এ ঘটনায় কোটচাঁদপুর থানায় ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনা তদন্তে এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ ও কোটচাঁদপুর সার্কেলের এডিশাল এসপি রেজাউল করিম রোজা।

কোটচাঁদপুর সার্কেলের এডিশাল এসপি রেজাউল করিম রোজা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, খালাতো ভাই শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে নাজমুল রিপাকে ভালবাসতো। দুজনার মাঝে মধ্যে দেখা ও কথাও হতো। রিপা লেখাপড়া করা অবস্থায় নাজমুল তাকে দ্রুত বিয়ে করতে চাইতো। তাদের এই প্রেমের সম্পর্কটি উভয় পরিবারের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী এ নিয়ে মারামারি হয়।

তিনি আরো জানান, খালাতো ভাইয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক বাবা মা জেনে ফেলা ও এনিয়ে মারামারি হওয়ায় কিশোরী রিপা লজ্জা ও অভিমানে বিষপান করে। প্রথমে তাকে কোটচাঁদপুর ও পরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে রিপা মৃত্যু বরণ করে।

রিপার দাদা শুকুর আলী অভিযোগ করেন, কোটচাঁদপুর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের মৃত সিরাজ বিশ্বাসের নাতি ছেলে ভবঘুরে বখাটে নাজমুল হোসেন (১৮) তার ছেলের মেয়ে রিপা ওরফে রিপনাকে প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে উত্ত্যাক্ত করতো। এ ঘটনায় তিনি এবং রিপনার বাবা আসাননগর-কুল্লাগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছেও ২বার অভিযোগ দিয়েছেন।

শুকুর আলীর ভাষ্যমতে বুধবার রাতেও রিপাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নাজমুল প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং উত্ত্যক্ত করে। এ নিয়ে নাজমুলের পরিবারের সাথে রিপার পরিবারের বিবাদ হয়। আসাননগর-কুল্লাগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে রিপার অভিভাবকরা আমাদের জানিয়েছিল। কিন্তু নাজমুলকে আমরা স্কুল এলাকায় কখনো দেখিনি।

কোটচাঁদপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা জানান, এ বিষয়ে রিপার বাবা থানায় মৌখিক অভিযোগ দিলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা নাজমুলের খালা রেশমা ও সুমীকে আটক করেছি। আমরা নাজমুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

LEAVE A REPLY