যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এশিয়ান-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ (এএপিআইস) বিষয়ক উপদেষ্টা কমিশনের যে ১৬ সদস্য পদত্যাগ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ড. নীনা আহমেদ। মূলত অভিবাসন, শরণার্থী ও সাত মুসলিম দেশের নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ ট্রাম্পের বেশকিছু নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এ সিদ্ধান্ত নেন তারা। পদত্যাগের বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে ট্রাম্পকে জানানো হয়। বর্তমানে ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র নীনা মার্কিন অভিবাসী সমাজে স্বস্তি ফেরানোর কাজ করবেন। খবর এনআরবি নিউজ ও হাফিংটন পোস্টের।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে ১৯৯৯ সালে প্রথম এশিয়ান-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। এর পরের প্রেসিডেন্টরা দায়িত্ব নিয়ে তাদের পছন্দের উপদেষ্টাদের দিয়ে পরিষদটি পুনর্গঠন করেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার দ্বিতীয় মেয়াদে নীনা আহমেদকে উপদেষ্টা মনোনীত করেছিলেন। ড. নীনাই ছিলেন ওবামা প্রশাসনে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার বাংলাদেশি-আমেরিকান।

ট্রাম্প যেদিন শপথ গ্রহণ করেছেন অর্থাৎ গত ২০ জানুয়ারি কমিশনের অন্যতম উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদসহ ছয়জন পদত্যাগ করেন। আর ১০ জন পদত্যাগ করলেন গত বৃহস্পতিবার। বারাক ওবামার আমলে নিয়োগ পাওয়া ২০ সদস্যের উপদেষ্টা কমিশনের বাকি চারজন যদি পদত্যাগ না করেন, তবে তারা ৩০ সেপ্টেম্বর নাগাদ বহাল থাকবেন ওই পদে।

ড. নীনা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে শুক্রবার বলেন, নির্বাচনী প্রচার সমাবেশ ও টিভি বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী এবং মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ও মতামত আমাকে বিস্মিত করেছে। তার প্রতিটি বক্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, আদর্শ আর মূল্যবোধের পরিপন্থী। এজন্য আমিসহ ছয় উপদেষ্টা ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের দিনই পদত্যাগপত্র পেশ করি। ড. নীনা পদত্যাগকারী অন্য ১০ জনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিলম্বে হলেও তাদের বোধোদয় ঘটেছে। তারাও সরে এসেছেন ট্রাম্পের গণবিরোধী-অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপে অতিষ্ঠ হয়ে।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে কমিশনের চেয়ারম্যান টাং টি নিগুয়েন এবং ভাইস চেয়ার মেরি ওকাডা ছাড়াও রয়েছেন মাইকেল বিউম, ক্যাথি কো চিন, জ্যাকব ফিটিসিমানো জুনিয়র, ডেফনি কাউক, ডি জে মেইলার, মলিক পাঞ্চলি, লিন্ডা ফ্যান ও সঞ্জিতা প্রধান। এর আগে নীনা আহমেদসহ অন্য পদত্যাগকারীরা হলেন- লিয়ান চিউন, দিয়ানে নারাসাকি, শেকার নারাসিমহান, বো থাও উরাবি ও পল ওয়াতানাবে।

দ্বিতীয় দফা পদত্যাগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, অভিবাসী, শরণার্থী ও সাত মুসলিম দেশের নাগরিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রেসিডেন্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ এবং ওবামাকেয়ার বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের দৃঢ় মনোভাব পুরোপুরি কমিশনের নিয়মনীতির বিরুদ্ধে। ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, আপনার (ট্রাম্প) প্রশাসনের প্রত্যেক সদস্যকে আমেরিকার প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সবার কাছে কেন্দ্রীয় সরকারে যাওয়ার সুযোগ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY