ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের দাপুটে নায়িকা শাবনূর। টিকিট কেটে সিনেমা হলে ভিড় করার মতো অবস্থা যে কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী সৃষ্টি করতে পেরেছেন তাদের মধ্যে একজন তিনি। তার নতুন ছবি মানেই ছিল সিনেমা হলে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। একটানা লম্বা সময় ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। প্রয়াত সালমান শাহ, মান্না থেকে শুরু করে শাকিব খান, রিয়াজ, ফেরদৌসসহ অনেক জনপ্রিয় নায়কের পছন্দের নায়িকা। অনেকদিন ধরেই নতুন ছবিতে কাজ করছেন না। ঢাকার প্রেক্ষাগৃহে শাবনূর অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি হচ্ছে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’। সেটাও প্রায় পাঁচ বছর আগের কথা। সবশেষ গত বছর শাবনূর দু’ধাপে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার পর ‘ইউরো স্টার’ নামে একটি কোম্পানির চুলার বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করেন। এটি নির্দেশনা দেন আহমেদ ইলিয়াস। এরপর আবার অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমান এই চিত্রনায়িকা। কিছুদিন সেখানে সময় কাটিয়ে গত ১১ই ফেব্রুয়ারি আবারো অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন তিনি। ফিরেই মানবজমিন-এর সঙ্গে চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়, নিজের অভিনয় জীবনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। শাবনূর বলেন, দেশে ফেরার পর তো কয়েকদিন বাসায়ই সময় কাটাতে হচ্ছে। কারণ ওখানের আবহাওয়ার সঙ্গে এখানের তফাৎটা অনেক। এখানে এসে তো আমাকে অনেক বেছে বেছে খেতে হচ্ছে। আর মাঝে আমি মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছি। কারণ ‘থাইরয়েড’ রোগে ভুগছি। এটা এমন একটা অসুখ হঠাৎ হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। অস্ট্রেলিয়ায় একজন ডাক্তারের চিকিৎসা অনুযায়ী চলতে হচ্ছে আমাকে। তবে এখন আগের চেয়ে ভালো আছি। মাঝে মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের একটি ছবিতে কাজ করার কথা ছিল এই নায়িকার। সেই ছবিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত দেশেই থাকতে চাই। আমার সন্তান আইজেন নিহানের বয়স এখন তিন বছর ১ মাস। এখন নিজের ওজনও একটু কমিয়েছি। তাই আবারো কাজ শুরু করতে চাই। মাঝে কাজ করার কথা থাকলেও করা সম্ভব হয়নি। আর বাংলাদেশে কয়েকদিন পর তো অনেক গরম আবহাওয়া শুরু হবে। আমি তো এখন গরম একদমই সহ্য করতে পারি না। একটা সময় ছিল গরম-ঠাণ্ডা মিলিয়ে কাজ করেছি। এখন নিজের স্বাস্থ্য এবং বাচ্চার দেখাশোনা সবকিছু নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। কিছুদিন পরই মানিকের ছবিতে কাজ করব। এদিকে গত বছর মোস্তাফিজুর রহমান মানিক তার ‘এত প্রেম এত মায়া’ নামের ছবিতে শাবনূরকে চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন। ওই ছবির কাজ কিছুটা হেেয়ছে, মূল অংশের কাজ শাবনূরের জন্যই শুরু করেননি তিনি। দেশীয় চলচ্চিত্র নিয়ে শাবনূর এখনো ভাবেন। আগের মতো নিয়মিত কাজ না করলেও মাঝে মাঝে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চান। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার কারণে দেশে সময় না কাটলে দৌড় দেন অস্ট্রেলিয়ায়। তবে বাংলাদেশের খাবার এবং এদেশের মানুষকে বেশি ভালোবাসেন বলে জানালেন এই অভিনেত্রী। শাবনূর বলেন, বিদেশে থাকলেও দেশে থাকতে আমার বেশি ভালোলাগে। তবে বাংলাদেশের ট্রান্সপোর্ট, চিকিৎসা এবং শিক্ষার মান উন্নত করা প্রয়োজন। একটা দেশের এই তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যারা বাইরে থাকি তারা দেখতে পাই এই তিনটি খাতে অনেক বাজেট থাকে একটি দেশের। উন্নয়নের জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের দেশের এই তিনটি খাতে সরকারের নজর দেয়া খুবই প্রয়োজন। সামনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন। শাবনূর এবারের নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, এবার তো অনেক প্রিয় মানুষই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আমি নির্বাচন করতে ইচ্ছুক না। তবে মনে মনে কাউকে না কাউকে তো সমর্থন দিতেই হবে। সেটা আমার মনেই আপাতত রেখে দিয়েছি। নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও ভোট দিতে যাব।

LEAVE A REPLY