বাঙালি জাতির ইতিহাসে মহান ভাষা আন্দোলনছিলো বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে একটি সফল আন্দোলন।এ আন্দোলনে জগন্নাথের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রতিক্রিয়া মুলত ১৯৪৮ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদের মিছিলের মাধ্যমেশুরু হয়।

এসব প্রতিষ্ঠানেরউদ্যোগে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ভীত তৈরি করে।বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে জানা যায়‘১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চকে ‘বাংলা ভাষাদাবি’দিবস ঘোষণা করা হলো। সামান্য কিছুসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাড়াশতকরা ৯০ ভাগ ছাত্র এ আন্দোলনে যোগদান করলো। জগন্নাথ কলেজ, মিডফোর্ডমেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশেষ করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করলো
জগন্নাথ ও মেডিক্যাল কলেজে,আলাদা করে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে উঠেছিল।রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা‘রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন সাব-টাইটেল ছিল ‘কি ও কেন?’ এর ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক লেখক আনিসুজ্জামান।আনিসুজ্জামান এরলেখা থেকে জানা যায়,২০শে ফেব্রুয়ারি নবাব পুর রোডে আওয়ামী লীগ অফিসে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষাসংগ্রাম পরিষদের বৈঠকে জগন্নাথ কলেজ সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আহমদ হোসেন ও আনিসুজ্জামান পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।ভাষা আন্দোলনে সর্বপ্রথম শহীদ হন এ প্রতিষ্ঠানের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্ররফিক উদ্দিন আহমদ।১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি রাজপথে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার মিছিলেরফিক অংশগ্রহণ করেন।পুলিশগুলি চালালে সেই গুলিতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।ভাষাআন্দোলন নিয়ে ষাটের দশকেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সাহসিকতার পরিচয় দেন এ প্রতিষ্ঠানেরছাত্র, প্রখ্যাত কথা শিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান
তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক নুরু মোল্লা ছিলেন বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে গঠিত‘সর্বদলীয় সেন্ট্রাল কমিটি অব একশান’ এর সদস্য।তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টারএম.আমিরুল ইসলাম চলমান ভাষা আন্দোলন ও পাকিস্থান গণপরিষদে লিয়াকত আলী খানেরপ্রস্থাবিত ‘Basic Principle Repot’এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকাপালন করেন।৫২ সালে জগন্নাথছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন আহমদ ভাষা আন্দোলনেসক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করায় কারাবরণ করেন।
জগন্নাথের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক অজিতকুমার গুহ ১৯৫২ সালে ভাষাআন্দোলনের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে গ্রেফতার হন।জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দীন আহমেদ আহমেদসহ অন্যান্য শিক্ষকরা এখান থেকেই ছাত্রদের ভাষাআন্দোলনে উৎসাহিত করতেন।সাবেক এমপি মরহুম আবদুর রব, মৃণাল বারড়ি ও খলিলুর রহমানের মতো জগন্নাথেরনাম না জানা অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবেঅংশগ্রহণ করেন।

লেখকঃ জুয়েল হোসেন শ্রাবন
উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

LEAVE A REPLY