বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও প্রকল্পে বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং কর্মী নিয়োগ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। স্বল্প দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশিদের কাজের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। তবে দেশে পাওয়া না গেলে উচ্চ যোগ্যতার বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল থাকবে। সম্প্রতি বিডার নির্বাহী পরিষদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিডার পক্ষ থেকে দেশের সব চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

বিদেশি কর্মীদের এ দেশে কাজের অনুমতি এবং ভিসার সুপারিশ করে থাকে বিডা। আগে এই দায়িত্ব পালন করত বিলুপ্ত বিনিয়োগ বোর্ড। বিডায় নিবন্ধিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২৫ হাজার বিদেশি কর্র্মী ও কর্মকর্তা কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার মনে করে সম্প্রতি বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানে স্বল্প দক্ষতার বিদেশি কর্মী নিয়োগ অনেক বেড়েছে। এতে দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অথচ এসব পদ খুব সহজেই স্থানীয় দক্ষ জনবল দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। আবার বিদেশি কর্মীদের বেতন ডলারে পরিশোধ করতে হয় বলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদে কিছুটা হলেও চাপ পড়ছে। এসব বিবেচনায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে নিয়ন্ত্রণ চায় সরকার। বিদেশি কর্মী নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না। তবে স্বল্প দক্ষ কিংবা বিশেষজ্ঞ দু’ধরনের বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত থাকছে।

জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মণ্ডল বলেন, দেশে এখন প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ছে। প্রয়োজনীয় সেবা দিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সক্ষম। এ ক্ষেত্রে আগে কোনো প্রতিষ্ঠানে ২০ জন দেশি কর্মকর্তা থাকলে একজন বিদেশি নিয়োগের নিয়ম ছিল। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এটা ছিল এক অনুপাত পাঁচ। আবার তেল-গ্যাস কোম্পানিতে বেশিরভাগই বিদেশি। এখন নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কেস টু কেস ভিত্তিতে শর্ত শিথিল থাকতে পারে। কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে মানের প্রশ্নে তাদের বেশি বেতনে বিদেশি কর্মী কিংবা বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন, সেটা অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।

এখন একক খাত হিসেবে পোশাক শিল্পে বেশিসংখ্যক বিদেশি কর্মী কাজ করেন। ঢালাও নিয়ন্ত্রণ হলে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন বিজিএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির। তিনি বলেন, তারাও চান দেশি কর্মীরাই বেশি মূল্যায়িত হোক। কাজের ক্ষেত্রে স্থানীয়রাই অগ্রাধিকার পাক। তবে সব ক্ষেত্রে এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানবসম্পদ তৈরি হয়নি দেশে। সে ক্ষেত্রে বিদেশিদের কাজের অনুমতি দেওয়া না হলে সংকটে পড়বে শিল্প। –

LEAVE A REPLY