বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলো চীনের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ঝেনহুয়া অয়েল এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তিও করেছে। চীনের প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান নরিনকোর একটি অংশ হচ্ছে ঝেনহুয়া। চুক্তিটি পূর্ণ হলে দক্ষিণ এশিয়ায় এটাই হবে চীনের বৃহত্তম বিনিয়োগ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স

বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাও ওই গ্যাসক্ষেত্রগুলো কিনে নিতে আগ্রহী। আর এ কারণে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কথাবার্তাও শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্যাসক্ষেত্রগুলোর দাম নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেনজিকে দায়িত্ব দেবে বলে জানা যায়। বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন বলে রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র কেনার ব্যাপারে চীনের ঝেনহুয়া অয়েলের আগ্রহের কথা জানে না বাংলাদেশ।

ঝেনহুয়া অয়েলের মুখপাত্র ঝাং জিয়াওদি বলেন, বিষয়টি বাণিজ্যিক আলোচনার মধ্যে আছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের নীতির কারণে আমরা মন্তব্য করতে পারছি না।

শেভরন এক ইমেইলে রয়টার্সকে জানিয়েছে, বাংলাদেশে গ্যাসক্ষেত্রের ব্যাপারে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনা হয়েছে। তবে এর চেয়ে বেশি তথ্য দিতে চায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৫ সালে শেভরন জানায়, ২০১৭ সালের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনের ভূ-তাপ শক্তি সংক্রান্ত প্রকল্প ও বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো বিক্রি করে দিতে চায়।

বাংলাদেশ জানে এ ব্যাপারে শেভরন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথাবার্তা বলছে। তবে ঝেনহুয়ার আগ্রহ সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই বাংলাদেশের।

এ ব্যাপারে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ রয়টার্সকে বলেন, এটা শেভরনের ব্যাপার। আমরা এতে বাধা দেব না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রাধিকারই থাকবে বেশি।

বর্তমানে দেশের বিবিয়ানা, জালালাবাদ এবং মৌলভীবাজারে গ্যাসক্ষেত্রগুলো শেভরনের নিয়ন্ত্রণাধীন, যা দেশের মোট গ্যাসক্ষেত্রের অর্ধেক।

LEAVE A REPLY